View: 4

সিলসিলা: সুফি তরিকার গ্লোবাল হিস্ট্রি | এপিসোড ২

অনেকেই মনে করেন সুফিবাদ মানেই শরীয়তের বাইরে গিয়ে একটা উদাসীন জীবন। কিন্তু আব্দুল কাদির জিলানী নিজেই ছিলেন হাম্বলী মাযহাবের একজন শীর্ষ ফকি। তার কাছে দ্বীন মানে একসাথে চলা দুইটা...
সিলসিলা

১২ শতকের বাগদাদ। বাইরে আব্বাসী খিলাফত ভাঙতেছে, রক্তে লাল হয়ে যাইতেছে টাইগ্রিস নদী। কিন্তু শহরের এক সাধারণ মাদ্রাসার ভেতরে তখন জন্ম নিতেছে এমন এক শক্তি, যা পৃথিবীর যেকোনো সাম্রাজ্যের চেয়েও দীর্ঘস্থায়ী হবে। এই মাদ্রাসায় বইসা আছেন ৯০ বছরের এক বৃদ্ধ, পারস্যের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে আসা একজন ফকি। বলা হইতো তার কন্ঠ নাকি তীব্র ঝড়ও থামায়ে দিতে পারতো। তিনি শায়খ আব্দুল কাদির আল জিলানী। ৯০০ বছর পার হয়ে গেছে, অথচ এখনো এশিয়া থেকে আফ্রিকা, কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে প্রতিধ্বনিত হয় তার নাম। তার নাম থেকেই গড়ে ওঠে সুফিবাদের ইতিহাসের প্রথম আর সবচেয়ে বড় আধ্যাত্মিক সংগঠন— তরিকায়ে কাদেরিয়া।

১০৭৭ সালে পারস্যের কুয়াশা ঢাকা পাহাড়ি অঞ্চল জিলানে জন্ম নেন তিনি। ১৮ বছর বয়সে জ্ঞানের টানে চলে আসেন বাগদাদে। তখনকার বাগদাদ ছিল পৃথিবীর জ্ঞানচর্চার রাজধানী। ঠিক এই সময়েই ইমাম গাজ্জালী লিখতেছিলেন তার বিখ্যাত সব কিতাব। বলা হয়, গাজ্জালী যেখানে আধ্যাত্মিকতার তত্ত্ব শিখাইছেন, আব্দুল কাদির জিলানী সেটার প্রয়োগ দেখাইছেন বাস্তব জীবনে।

অনেকেই মনে করেন সুফিবাদ মানেই শরীয়তের বাইরে গিয়ে একটা উদাসীন জীবন। কিন্তু আব্দুল কাদির জিলানী নিজেই ছিলেন হাম্বলী মাযহাবের একজন শীর্ষ ফকি। তার কাছে দ্বীন মানে একসাথে চলা দুইটা রাস্তা। তিনি জোর দিয়ে বলতেন, এই দুইটার একটা ছাড়া আরেকটা অচল; শরীয়ত ছাড়া আধ্যাত্মিক মুক্তি ঘটে না, ওইটা অধঃপতন।

শিক্ষা শেষ করে তিনি বাগদাদ ছেড়ে চলে যান। পরের ২৫ বছর তিনি ইরাকের মরুভূমিতে একা কাটান কঠোর সাধনায়। কথিত আছে, টানা ৪০ বছর তিনি এশার ওজু দিয়েই ফজরের নামাজ পড়তেন— মানে একটা রাতও তিনি ঘুমাইতে যান নাই! এই দীর্ঘ একাকী সাধনার পেছনে ছিল একটা গভীর লক্ষ্য। জিলানীর বিশ্বাস ছিল, প্রত্যেক মানুষের রুহের ভেতরে আছে একটা আদিম রহস্য, যেটারে তিনি বলতেন ‘সির’। জিলানীর মতে, এই সফরে মানুষ পার হয় চারটা ধাপ। বাগদাদের আশেপাশের মরুভূমিতে একা একাই চারটা ধাপ পার হতে হতেই তিনি বুড়া হয়ে যান।

৫০ বছর বয়সে তিনি বাগদাদে ফিরে আসেন— এবার প্রকাশ্যে কথা বলার জন্য। তার ওস্তাদ শেখ আবু সাঈদ আল মোকারররামের প্রতিষ্ঠিত বাগদাদের বাব আল আজিজ মহল্লায় ছোট্ট একটা মাদ্রাসায় ক্লাস নেওয়া শুরু করেন জিলানী। এই মাদ্রাসারই অন্যতম ছাত্র ছিল জাইন আল দিন ইবনে নাজা, তিনি ছিলেন সালাউদ্দিন আইয়ুবীর ট্রাস্টেড পলিটিক্যাল এডভাইজার। আরও ছিলেন ইবনে কাদ্দামা— সালাউদ্দিনের মেইন কাউন্সিলরদের একজন এবং হানবুলি স্কুলের একজন নামকরা আলেম।

তার বয়ান শুনতে এমন ভিড় হইতে লাগলো যে পুরান মাদ্রাসায় জায়গা কুলায় না। গরিব মানুষ শ্রম দিয়া আর ধনীরা টাকা দিয়া বানাইলো নতুন এক বিশাল ভবন। এই ভবন তৈরির পেছনে একটা ছোট্ট গল্প আছে। এক গরিব মহিলার কাছে কোন টাকা ছিল না, কিন্তু সেও চাইছে মাদ্রাসার জন্য কন্ট্রিবিউট করতে। তার কাছে ছিল কেবল অনাদায়ী ১০ দিনার মোহরানা। তিনি তার স্বামীকে বললেন শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে, তাইলে তিনি মোহরানা আদায় হইছে ধরে নেবেন। স্বামী পাঁচ দিনার সমপরিমাণ কাজ করার পর জিলানী বুঝলেন, আর বেশি সময় গেলে পরিবারের আয়-রোজগারে টান পড়বে। তিনি তারে ফেরত পাঠায়ে দিলেন আর বললেন, পাঁচ দিনারের কাজকেই তিনি ১০ দিনার গণ্য করছেন।

এইটা শুধু একটা গল্প না, এইটা ছিল একটা নতুন সমাজের সূচনা— যেখানে ধনীরা টাকা দিয়ে আর গরীবরা শ্রম দিয়ে একসাথে কাজ করছিল। তিনি শুধু ইবাদত-বন্দেগীই করতেন না, সূর্যাস্তের আগে বাগদাদের অভাবী মানুষদের মাঝে নিজের হাতে রুটি বিতরণ করতেন। বলতেন, আসল ফকিরি মানে নিজের ভেতরের আমিটারে খালি কইরা ফেলা। এই মানবসেবায় তাকে বানাইছে ‘গাউসুল আজম’— মহত্তম সাহায্যকারী।

প্রেমময় এই মানুষটি আবার জাস্টিসের প্রশ্নে ছিলেন আপসহীন। আব্বাসী খলিফা আল মুত্তাকী এক অত্যাচারীকে কাজী হিসেবে নিয়োগ দিছিল। কেউ তার সামনে ভয়ে কথা বলতে না পারলেও জিলানী একদিন মসজিদে সরাসরি খলিফার মুখের উপরে বইলা দিলেন, “তুমি মুসলমানদের উপরে সবচেয়ে অত্যাচারী কাজীকে নিয়োগ দিছো, কাল বিশ্বজগতের স্রষ্টার সামনে তুমি কি জবাব দিবা?” এই ঘটনায় খলিফা এতটাই ধাক্কা খাইলেন যে সেই অত্যাচারী কাজীকে সাথে সাথে সরাইয়ে দিলেন। যিনি ছিলেন গাউসুল আজম, তারই আবার ছিল ক্ষমতার মুখে সত্য বলার অসীম সাহস।

তিনি শুধু মুখের কথায় থেমে থাকেন নাই, লিখে গেছেন একাধিক কিতাব— ‘আল গুনিয়া’, ‘ফুতুহুল গাইব’ আর তার সবচেয়ে গভীর রচনা ‘সির আল আসরার’ (রহস্যের রহস্য)।

প্রশ্ন হইল, কাদেরিয়া তরিকা অন্য সুফি ধারা থেকে আলাদা কেন? উত্তর লুকায় আছে তাদের জিকিরের স্টাইলে। সুফিবাদের অনেক ধারা নীরব, অন্তর্মুখী ধ্যানে বিশ্বাসী, কিন্তু কাদেরিয়ারা একদম উল্টা। তারা উচ্চস্বরে বুক চিড়ে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে— ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’, ‘আল্লাহ’।

তার মৃত্যুর ১৫০ বছরের মধ্যেই এই তরিকা বাগদাদ ছাড়িয়ে সিরিয়ায় পৌঁছায়। দামাস্কাস আর হামা শহরে গড়ে ওঠে নতুন নতুন সেন্টার। এই ছড়িয়ে পড়ার পেছনে ভূমিকা ছিল তার ছাত্রদের। ছাত্রদের মধ্যে তার সন্তানরাও ছিল, যাদের মধ্যে কেউ কেউ হয়ে উঠেছিলেন তার খলিফা। পরবর্তীকালে এই তরিকা বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়ায়ে পড়ার পর আরো অনেক বড় বড় মুর্শিদের জন্ম হয়। এই মুর্শিদদের হাত ধরে ওইসব এলাকার বিশেষত্ব ও প্রয়োজন মাফিক কাদেরিয়া তরিকার নতুন নতুন শাখা তৈরি হয়। ফান্ডামেন্টালি এদের মধ্যে মিল থাকলেও প্র্যাকটিসের দিক দিয়ে নানান ভিন্নতা তৈরি হয়।

১৪৯২ সালে স্পেন থেকে মুসলিমদের বিতাড়িত করা হইলে সেই Refugees (শরণার্থী)-রাই কাদেরিয়া শিক্ষা নিয়ে যায় মরক্কোয়। ফেজ শহরে গড়ে ওঠে আরেকটা বড় সেন্টার, যেইটা আজও টিকে আছে।

এই উচ্চকণ্ঠের সুর আর আত্মনিবেদনের শক্তি বাগদাদেই আটকে থাকে নাই। ব্যবসায়ীদের হাত ধরে এটা সাহারা মরুভূমি পার হয়ে যায়। মালির টিম্বাতুতে কুন্তা গোত্র গড়ে তোলে নিজেদের জাউইয়া বা সুফি কেন্দ্র, আর সেখান থেকেই কাদেরিয়া হয়ে ওঠে পশ্চিম আফ্রিকার সবচেয়ে শক্তিশালী আধ্যাত্মিক ধারা। ১৮০৪ সালে এই শক্তি পুরা একটা মহাদেশের মানচিত্র বদলায়ে দেয়। কাদেরিয়া শিক্ষায় দীক্ষিত উসমান দান ফৌদিও প্রতিষ্ঠা করেন সোকোতো খেলাফত, যাকে বলা যায় ইতিহাসের প্রথম প্রোটো-ডেমোক্রেটিক স্টেট।

এই তরিকা পূর্বদিকেও থেমে থাকে নাই। ইতিহাসবিদরা বলেন, ১৩৮৮ সালে কাদেরিয়ার শিক্ষা প্রথম ভারত উপমহাদেশে পৌঁছায়। আর আমাদের এই বাংলায়ও ঢাকা, চট্টগ্রাম থেকে শুরু করে অনেক এলাকায় কাদেরিয়ার খানকা আর পীরের মাজার আজও টিকে আছে। পাঞ্জাবে সুলতান বাহু নামের একজন কাদেরী সুফি কঠিন তত্ত্ব না, বরং সহজ পাঞ্জাবি কবিতা দিয়া এই তরিকার কথা মানুষের মুখে মুখে পৌঁছায় দেন। ১৪০ টির বেশি লেখালিখে তিনি দেখাইছেন আধ্যাত্মিকতা কঠিন আরবি না জাইনাও অর্জন করা যায়, লাগে শুধু খাঁটি প্রেম।

আরো পূর্বে ইন্দোনেশিয়া আর মালয়েশিয়ায় কাদেরিয়া পৌঁছায় বণিক আর আলেমদের হাত ধরে। ১৭ শতকে মাকাসারের শায়ক ইউসুফ আল মাকাসারী কাদেরিয়াকে নকশবন্দিয়ার সাথে মিলায়ে গড়ে তোলেন এক নতুন মিলিত ধারা, যা আজও জাভায় সক্রিয়। আর চীনেও ১৬৭৪ সালে এক কাদেরী শায়ক খাজা আব্দুল্লাহ প্রচার শুরু করেন, যা পরে লিনসিয়া শহরকে চীনের কাদেরিয়া কেন্দ্র বানায় দেয়।

দুনিয়ার তাবৎ সভ্যতা একটা পর্যায়ে গিয়ে যে কমন সমস্যার মুখোমুখি হয় তা হলো সমাজে ন্যায় আর জাস্টিস ধইরা রাখতে না পারা। এই সমস্যার মূলে যতটা আছে নৈতিকতার ব্যর্থতা, ততটাই আছে সিস্টেমগুলার ব্যর্থতা। মানুষ মনে করে মোরালিটি একটা পার্সোনাল ব্যাপার মাত্র, কিন্তু সিস্টেম যখন নিজেই মোরালিটি তৈরি করতে ব্যর্থ হয়, তখন সকল সমাজে নীতির আলাপ পাবলিক স্পেসে বাইরা যায়। যা নাই তার ব্যাপারে আলাপ করার মধ্যে দিয়া সেইটা না থাকাটারে কভার করার একটা চেষ্টা জারি থাকে।

ইসলামের নানা রকম প্রতিষ্ঠান তো সেই সময় হাজির ছিলই বাগদাদে। এর বাইরেও সাধারণ লোকজন নামাজ, রোজা, হজ, যাকাত সবই পালন করতো। কিন্তু এই বাহ্যিক কাজগুলো দিয়া সমাজে যে মোরালিটি তৈরি হওয়ার কথা ছিল সেইটা আর হইতেছে না। ইনস্টিটিউশনের মেশিনগুলা আগের মতোই ঘুরতেছিল, কিন্তু কোন মোরাল আউটকাম বাইর হইতেছে না। এইরকম একটা হিস্টোরিক্যাল মুহূর্তে দাঁড়াইয়া আব্দুল কাদের জিলানী এই মোরাল আউটকামটা আবার বের করে আনার সিস্টেমটাই দাঁড় করাইতে পারছিলেন।

তিনি বুঝতে পারছিলেন, সিস্টেমের নিজস্ব নিয়ম-কানুন থাকলেও সেই সিস্টেমটা চালায় শেষ পর্যন্ত মানুষই। ফলে তিনি তার স্কুলিং আর মেথডোলজি দিয়া সমাজের সকল স্তরে সেই লোকগুলারে তৈরি করতে পারছিলেন যারা এই মোরালিটি আর জাস্টিসের শুধু আলাপ করে না, বরং এই বিষয়গুলারে এমবডি করে। তিনি শুধু মোরালিটি কি এইখানে তার ফোকাস সীমাবদ্ধ রাখেন নাই, বরং কোন কন্ডিশনে মোরালিটি আর জাস্টিস সমাজে শেকর গজাইতে পারে সেই কন্ডিশনগুলা নিজ হাতে তৈরি করে যাইতে পারছিলেন আব্দুল কাদের জিলানী। এই ব্যাপারটা শুধু ধরতে পারছিলেন তাই না, তিনি নিজে একটা সিস্টেমের আর্কিটেক্ট হিসেবে হাজির হয়েছিলেন, যেই সিস্টেমটা তখনকার মুসলিম সমাজ আর সভ্যতারে রিডিফাইন করতে পারছিল।

বর্তমান যুগে অনেকের জন্যই এই ব্যাপারটা চিন্তা করতে পারাটাই কষ্টকর। কারণ অধিকাংশ মুসলিম তাদের ইতিহাসটা শিখছেন ওয়েস্টের নজর দিয়া, ওয়েস্টের কাছ থেকা— যেখানে আব্দুল কাদের জিলানী শুধুমাত্র একজন বড় পীর, একজন সুফি মিস্টিক।

নকশবন্দী সুফিরা আল্লাহকে খোঁজে হৃদয়ের নীরবতায়, কাদেরিয়ারা খোঁজে উচ্চকণ্ঠের আত্মনিবেদনে। ভারতের চিশতিয়া তরিকা যেখানে ভাবাবেগপূর্ণ কাওয়ালি গায় আর তুর্কিয়ের মেভলেভিদের ঘূর্ণন নৃত্যের বিপরীতে কাদেরিয়া তরিকা দাঁড়ায় আছে অবিরাম জিকির আর শরীয়ার শৃঙ্খলার উপরে।

আজও প্রতিবছর রবিউস সানি মাসের ১১ তারিখে বাগদাদে তার মাজারে হাজার হাজার মানুষ আসে উরস বা বার্ষিক স্মরণোৎসব পালন করতে। সম্মিলিত জিকির, কুরআন তেলাওয়াত আর তার শিক্ষার উপর আলোচনা— ৯০০ বছর পরেও এই রীতি চলতেছে একইভাবে। বাগদাদের একটা ছোট্ট মাদ্রাসা থেকে শুরু হয়ে আজ এই তরিকা ছড়িয়ে আছে আফ্রিকা থেকে চীন পর্যন্ত। কোন রাষ্ট্রীয় শক্তি বা সেনাবাহিনী ছাড়াই শুধু একটা মানুষের চরিত্র আর তার শিক্ষা এতদূর পর্যন্ত পৌঁছাইতে পারে, এইটাই কাদেরিয়ার সবচেয়ে বড় বিষয়।

আজকের এই খন্ড-বিখন্ড দুনিয়ায় কাদেরিয়া তরিকা আমাদের কি শেখায়? এটা মনে করায়ে দেয় শরীয়ত আর প্রেম একে অপরের শত্রু নয়। আসল যুদ্ধটা বাইরে কোথাও না, ভেতরে নিজের নফসের সাথে। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শক্তি অন্য সবার উপরে ওঠা না, বরং নিচে ঝুঁকে বিপন্ন কোন মানুষের দিকে ভালোবাসার হাত বাড়ায় দেওয়া।

শেষ করি একটা গল্প দিয়া। একদিন জিলানী বাগদাদের রাস্তায় তার ছাত্রদের নিয়ে কোথাও যাইতেছিলেন। পথে এক মাতাল পইড়া ছিল। সেই মাতাল তাকে ডাক দিয়া বলল, “হে আব্দুল কাদের, সে কি পারে? নাকি পারে না?” জিলানী থামলেন, বললেন, “পারে।” আবার হাঁটা শুরু করলেন।

মাতাল আবার ডাক দিল, “হে আব্দুল কাদের, সে কি পারে? নাকি পারে না?” জিলানী আবার থামলেন, বললেন, “পারে।” আবার হাঁটা শুরু করলেন।

তৃতীয়বার পেছন থেকে ডাক, “হে আব্দুল কাদের, আমার তৃতীয় প্রশ্নের উত্তর দিয়ে যাও। সে কি পারে নাকি পারে না?” জিলানী থামলেন, বললেন, “পারে।” আর সাথে সাথে কান্নায় ভাইঙ্গা পড়লেন।

ছাত্ররা হতবাক! পরে মজলিসে এক ছাত্র প্রশ্ন করল, “হুজুর, একই প্রশ্ন তিনবার, একই উত্তর তিনবার, তৃতীয়বার কান্না কেন?” জিলানী বললেন, “প্রথমবার সে জিজ্ঞেস করছিল, আল্লাহ চাইলে কি আমার মত মাতাল পাপীকে নিমিষেই ভালো মানুষ বানাইতে পারে? আমি বললাম, পারে। দ্বিতীয়বার সে জিজ্ঞেস করছিল, আল্লাহ চাইলে কি আমাকে নিমিষেই তোমার মত অলি বানাইতে পারে? আমি বললাম, পারে। আর তৃতীয়বার সে জিজ্ঞেস করছিল, আল্লাহ চাইলে কি নিমিষেই আমাকে তোমার মত অলি আর তোমাকে আমার মত মাতাল বানাইতে পারে? আমি বললাম, পারে। আর তখন আল্লাহর সামনে আমার নিজের দশার কথা মনে পইড়া গেল আর কান্না থামাইতে পারলাম না।”

৯০০ বছর ধইরা কোটি কোটি মানুষ এই মানুষটারে ভালোবাসে— এইটুকু বুঝলেই কারণটা পাওয়া যায়।

দিন দুনিয়া

Leave a Reply

dinduniya

Share with