আমার পার্সোনালি প্রথম আলো যতটা টানে, তার চাইতে মতিউর রহমান আমার কাছে বেশি কিউরিয়াস একটা কেস মনে হয়।
আজকে নভেম্বরের ৪ তারিখ। ১৯৯৮ সালের এই দিনে প্রথম আলো পত্রিকা শুরু হয়। প্রথম আলোর এডিটর তখন এবং এখনো কে? মতিউর রহমান।
মতিউর রহমানের যেই সাংবাদিকতা জীবন, সেটাও ইন্টারেস্টিং। উনি বেসিক্যালি সিপিবির লোক। সিপিবির পত্রিকা ছিল ‘সাপ্তাহিক একতা’। একতার এডিটর ছিলেন, পরে বিভিন্ন জায়গায় আরো কই কই যেন লেখাজোখা করছেন বা একতার এডিটর হিসেবেই লেখাজোখা করতেন।
এরশাদ বিরোধী মুভমেন্টের সময় যদি আপনি চিন্তা করেন— কয়েকটা জোট ছিল। বাম জোট, বিএনপির নেতৃত্বে সাত দলীয় জোট, আর আওয়ামী লীগের ছিল আট দলীয় জোট। তো বাম জোট বলে একটা পাঁচ দলীয় জোট ছিল, তারাও ইলেকশন করছিল ৯১-তে।
ইলেকশন করার পরে যেটা হলো— ইলেকশনের সময় তখন মতিউর রহমান হচ্ছে একতার এডিটর। একতার এডিটর হিসেবে তখন ধরেন বিএনপি এবং জামায়াত এদের নিয়ে ব্যাপক লেখাজোখা সেখানে হইলো আর কি, বিভিন্ন মিডিয়ায় তো আসলে এই জিনিসটা করতেছিল। তো সেই সময় যে পলিটিক্যাল দলগুলা এবং সো-কল্ড সিভিল সোসাইটি, ইনক্লুডিং এই একতা বা বাম ঘরানার যে মিডিয়াগুলো ছিল, এরা সবাই তাদের একটা অভিন্ন জায়গায় একমত ছিল— সেটা হচ্ছে বাংলাদেশকে পার্লামেন্টারি সিস্টেমে ফিরতে হবে। ওই যে বাকশাল হইলো, শেখ মুজিব বাকশাল করলো ৭৫ সালে, তখন তো প্রেসিডেনশিয়াল সিস্টেম হলো। প্রেসিডেনশিয়াল সিস্টেম চলতেছিল— শেখ মুজিব, পরে মুশতাক, তারপরে জিয়াউর রহমান, তারপরে সাত্তার, মাঝখানে সায়েম, তারপরে হলো আপনার এরশাদ। পরে হলো পার্লামেন্টারি সিস্টেমে আবার ফিরতে হবে, এটা হলো ধরেন মোটামুটি সবাই একমত, ইনক্লুডিং এই বাম ঘরানার যেগুলা ছিল।
এখানে একটা ইম্পর্টেন্ট জিনিস হচ্ছে— ওই ইলেকশনে এরশাদ বিদায় হওয়ার পরে যে ইলেকশনটা হয় (৯১-এর ইলেকশন), সারাদেশের জন্য এটা খুবই বড় একটা আপসেট ছিল। ইলেকশনের রেজাল্ট যখন দেখা যাচ্ছে একের পর এক বিএনপি জিততেছে— খালেদা জিয়া পাঁচটা আসনে জিতছে, শেখ হাসিনা তিনটা ইলেকশন করে দুইটা হেরে গেছে— এটা ছিল বিরাট একটা আপসেট।
তো এটা কেন আপসেট? কারণ এভরিবডি, যারা সো-কল্ড নিজেদেরকে শিক্ষিত মনে করে, সংস্কৃতিমান মনে করে, কালচারড, এরা লেখাপড়া চিন্তাভাবনা করে— এরকম যাদের একটা অন্য ধরনের দেমাগ ছিল, সেই দেমাগী লোকজনের কাছে খুবই অবভিয়াস ছিল যে আওয়ামী লীগ ছাড়া জিতবে কে! জিতার কেই বা আছে!
এরকম একটা সিচুয়েশন তৈরির পেছনে আসলে আমার মতে যে ঘটনাটা— সেটা হচ্ছে লেট অ্যান্থনি মাসকারেনহাসের একটা বই পাবলিশড হয়, সেটার পরে বাংলায় হিউজ লেখালেখি হইতে থাকে। সেখানে আপনার জিয়াকে ভিলেনাইফাই করা এবং শেখ মুজিব বাকশাল, শেখ মুজিব খুন… যেটা হয় যে আওয়ামী লীগের লোকজন এবং বাম ঘরানার লোকজন, তারা আসলে ৭১-এর পর থেকে ৭২-এর জানুয়ারি থেকে ৭৫-এর শেখ মুজিবের মরণ পর্যন্ত এই যে টাইমটা— এই জায়গায় শেখ মুজিব ছাড়া সকল দোষ হচ্ছে বাকিদের, শেখ মুজিবেরই খালি কোন দোষ নাই— এরকম একটা ভঙ্গি তারা এস্টাবলিশ করার ট্রাই করে। এবং শেখ মুজিব ষড়যন্ত্রের শিকার, এটা তারা মোটামুটি এস্টাবলিশ করে হারাইছে নিজেদের কাছে— দেশের মানুষের কাছে না, তো নিজেদের কাছে যেটা এস্টাবলিশ করছে, এটারেই ভাবতেছে কি যে দেশের মানুষের কাছে এস্টাবলিশ করছে! ফলে তারা ভাবতেছে আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কে ইলেক্টেড হবে?
দেশের মানুষের কাছে আসলে যে এস্টাবলিশ করতে পারে নাই, এইটাই তারা বুঝতে পারে নাই। যদিও তারা যদি ধরেন আরেকটু আসলেই এরকম চিন্তাভাবনা করতে পারতো, যেমন তাদের দাবি— সেই মোতাবেক চিন্তাভাবনা করতে পারলে তারা দেখতে পাইতো যে দেশের ইতিহাসে জিয়া হচ্ছে পপুলার পলিটিশিয়ান প্রেসিডেন্ট এবং জিয়া খুন হইছে। খুন হওয়ার পরে বিএনপিরই একজন ইলেক্টেড হইছে। সেই ইলেক্টেড প্রেসিডেন্টকে, বিএনপিকে হটাইয়া নাই করে দিয়া তারপরে এরশাদ ক্ষমতা দখল করছে। ফলে এরশাদ যাওয়ার পরে এবং এরশাদ বিরোধী মুভমেন্টের একমাত্র বড় লিডার হলো আপনার খালেদা জিয়া, খালেদা হচ্ছে আপসহীন নেত্রী, আর শেখ হাসিনা হচ্ছে ৮৬-র বেইমান।
ফলে দেশের মানুষের কাছে খালেদা জিয়া এবং বিএনপি— এইটাই ইলেক্টেড হবার কথা দেশের মানুষের ভোটে। কিন্তু উনারা ভাবতেছে যে না, আওয়ামী লীগের ইলেক্টেড হওয়ার কথা।
এই জায়গাটা লম্বা হয়ে গেল, কিন্তু লম্বা হওয়ার একটা কারণ আছে। কারণটা হলো যে, এই যে দেশের যেই ধরেন লিবারেল সেকুলার কালচারাল চিন্তা করতে পারা, দেমাগী বামাচারী বাম ঘরানার যে লোকজন— তাদের যে এই মস্ত শকটা, এই শকটা আসলে তাদেরকে একটা ডিসিশনের দিকে নিয়ে যায়। সেটা কি? সেটা হলো যে, তাদের এই বাম টাইপের একতা টাইপের মিডিয়া দিয়া হবে না, দেশে তাদের একটা মেইনস্ট্রিম মিডিয়া বানাইতে হবে।
তখন মেইনস্ট্রিম মিডিয়া বলতে আসলে বেসিক্যালি ডেইলি আর কি— একটা ছিল ইত্তেফাক, আরেকটা ছিল ইনকিলাব। ইত্তেফাকের তো ওই অর্থে ধরেন কালচারাল বা পলিটিক্যাল ইডিওলজিক্যাল যে পজিশন, এটা খুব ক্লিয়ার ছিল ব্যাপারটা এরকম না। ইত্তেফাক বেসিক্যালি ব্যবসা-বাণিজ্য, এই ধরনের এড— এসব ছাপাটাপা হইতো। তুলনায় মনে করেন ইনকিলাব হচ্ছে অনেক বেশি ইডিওলজিক্যাল, একটা এজেন্ডা তার ভেতরে ছিল। অন্য যারা ছিল, ধরেন সংবাদ— এরা আসলে ওই বামাচার করতে গিয়া দেশের মেইনস্ট্রিম আমজনতার যে পালস, সেইটা তারা অলওয়েজ মিস করতো। ইভেন শিক্ষিত মানুষদেরও পালস এটা তারা অলওয়েজ মিস করতো। এটলিস্ট ওই ৯১-এর ইলেকশনে হারার পরে তাদের এরকম একটা ফিলিং হইছে।
ফিলিং হওয়ার পরে খেয়াল করেন, ৯১ সালে কিন্তু একতা ছাড়ে মতিউর রহমান এবং ৯২ সালে মতিউর রহমান ‘ভোরের কাগজ’ শুরু করে সাবের হোসেন চৌধুরীর পয়সায়। এটা একটা মজার জিনিস। মানে হলো যে ধরেন, আওয়ামী লীগ জিতবে এটা ছিল আশা; সে যখন জিততে পারলো না, এখন আওয়ামী লীগরে পরের ইলেকশনে আবার ক্ষমতায় নেয়ার উপায় কি? উপায় হিসেবে একটা মিডিয়ার জরুরত তারা ফিল করছে— আওয়ামী লীগের সাবের হোসেন চৌধুরী, সেখানে জয়েন করতেছে কে? মতিউর রহমান, এবং ভোরের কাগজ বানাইতেছে।
ভোরের কাগজ বানানোর পরে বাংলাদেশে ফার্স্ট কি ঘটনাটা ঘটছে, এটা খেয়াল করেন। বাংলাদেশে ঘটছে হচ্ছে ‘গণ আদালত’। গণ আদালত ঘটছে, যেটা মনে করেন যে এখন ইউনূসের যে আইনমন্ত্রী আসিফ নজরুল, এই আসিফ নজরুল মনে করেন যে সেই সময় একটা বড় ফিগারই ছিল সংগঠনটার বেলায়। এবং আসিফ নজরুলের সাথে মতিউর রহমান ও প্রথম আলোর যে রিলেশন, সেটা খুবই ধারাবাহিক এখনো পর্যন্ত আসলে আছে।
তো ওই যে গণ আদালত হইলো, এবং গণ আদালত এমন একটা ধরেন দেশের ভেতরে ভাইব্রেশন তৈরি করছে যে আল্টিমেটলি দেখা গেল ৯৬ সালের ইলেকশনে ঠিকই আওয়ামী লীগ জিতছে। যদিও মনে করেন যে গণ আদালতে মেইন যে ইয়েগুলো ছিল— ধরেন গোলাম আযমের নাগরিকত্ব বাতিল করতে হবে, এই যে জিনিসটা, এটা একটু ফানি, উইয়ার্ড, চাইল্ডিশ একটা দাবি আসলে। মানে আপনার যদি এটা এজেন্ডা হয়, তাইলে আপনার মেইনলি যেটা করতে হবে, বাংলাদেশের কনস্টিটিউশন চেঞ্জ করতে হবে। কারণ কনস্টিটিউশন মোতাবেক গোলাম আযম অটোমেটিক্যালি নাগরিক। মানে তাকে যদি আপনি নাগরিকত্ব না দিতে চান বা নাগরিক হিসেবে মানতে রাজি না হন, তাইলে কনস্টিটিউশন চেঞ্জ কইরা তারপরে নাগরিকত্বের যে বিধানটা আছে, সেটাকে পাল্টায় ফেলতে হবে। এইভাবে হচ্ছে তার নাগরিকত্ব যাবে। কিন্তু এই কনস্টিটিউশন থাকা অবস্থায় যদি আপনি আদালতে যান, তাইলে তার নাগরিকত্ব যাওয়ার কোন কারণ নেই।
বাট উনারা যে মুভমেন্ট করতেছে, সেই মুভমেন্টে মনে করেন যে কনস্টিটিউশন আলোচনায় ওভাবে নাই। যেন বা এটা খুবই একটা রাজনৈতিক ব্যাপার যে আইন আছে, কিন্তু সরকার চাইলে এটা যে কারো বাতিল করে দিতে পারে। খেয়াল করেন, এইখানে কিন্তু ওই যে ‘মবোক্রেসি’-র কনসেপ্টটা আপনি আসলে পাবেন যে, আইন একটা আছে, কনস্টিটিউশন আছে, সেই মোতাবেক সরকার করবে ব্যাপারটা এরকম না— ব্যাপারটা হচ্ছে সরকার এবং আইন আদালত তাদের যেই ফয়সালা, সেটার বাইরে ওরা একটা ফয়সালা চায়, গায়ের জোরে একটা জাজমেন্ট তারা বাইর করতে চাইতেছে।
এভাবে হচ্ছে যে ধরেন গণ আদালত হইলো, এবং গণ আদালতের পরে ঠিকই আসলে মতিউর রহমান বা ভোরের কাগজ তারা আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় ফিরাইতে পারলো ২০ বছর পরে। মজার জিনিস!
কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরে, তারপরে খুব সম্ভব মতিউর রহমানের সাথে কোনটা টানাপোড়েন হইছে। তারপরে দেখা গেল যে মতিউর রহমান ছাইড়ে দিছে ভোরের কাগজ। ভোরের কাগজ ছেড়ে দিছে, ভোরের কাগজ মোটামুটি পেগে গেল। পরে মতিউর রহমান কি করলো? ৯৮ সালের ৪ নভেম্বর ‘প্রথম আলো’ শুরু করলো আর কি।
তো খেয়াল করেন যে, আওয়ামী লীগ যে আসলে মতিউর রহমানের লগে উল্টাপাল্টা করছে কিছু একটা, সেটার বদলা বা রিভেঞ্জ সে কিন্তু নিছে কি অর্থে— মানে ধরেন ২০০১ সালে যে বিএনপি ক্ষমতায় আসলো, এইটা তার কাছে আসলে আওয়ামী লীগ যে তার লগে খারাপ ব্যবহার করছে, সেটার রিভেঞ্জ হিসেবে সে ইয়ে করছে। দেখেন, এই যে ৯৬-তে শেখ হাসিনা আসলো, ৯৮-তে প্রথম আলো হলো, ২০০১-এ ইলেকশন হলো, সেই ইলেকশনে বিএনপি জিতলো। ফলে মতিউর রহমান তো কামিয়াব হইছে ওই জায়গায়!
এরপরে কি হইলো? এরপর মনে করেন যে— আচ্ছা, আওয়ামী লীগের উপরে তো রিভেঞ্জ নিছি, এখন তো তাইলে আওয়ামী লীগরে আবার ফিরানো দরকার। এবং মতিউর রহমান বা বাম এদের লগে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের আবার একটা খাতির হওয়া শুরু হইলো। তো তখন দেখা গেল যে মনে করেন এই যে হাওয়া ভবন, তারেক রহমান— এগুলা নিয়ে হচ্ছে প্রথম আলোতে ব্যাপক লেখালেখি, জিয়া সামরিক শাসন— এইসব কত কি নিয়া! সেখানে কর্নেল তাহেরের গ্লোরিফিকেশন হইলো। কর্নেল তাহেরের গ্লোরিফিকেশন মানেই হলো জিয়াকে ভিলেন বানানো। এবং ওই যে আপনারা একটা ঘটনা মনে হয় জানেন যে, সঞ্জীব চৌধুরী টিএসসিতে জিয়ারে গালাগালি করতেছে কর্নেল তাহেরের খুনি বইলা— এগুলা কিন্তু আসলে মতিউর রহমান ও প্রথম আলোর একটা কন্ট্রিবিউশন ওই জায়গায় আছে।
তো ফলে আপনার ধরেন আওয়ামী লীগের লগে আবার খাতির হইলো। এবং এই যে এজেন্ডা নিয়া মনে করেন বিএনপি এবং জামায়াত এদেরকে নিয়ে ইয়ে করতেছিল, এটা তো ফুলফিল হইলো না। মানে তারাই তো আসলে ক্ষমতায় চলে গেল। মানে আওয়ামী লীগের উপরে সে যদি ক্ষ্যাপা থাকেও, তার মানে তো এই না যে সে আসলে বিএনপি বা জামায়াত এদেরকে বাংলাদেশের ক্ষমতায় দেখতে চায়। ফলে যেটা হলো যে, এটা তো তার জন্য একটা আপসেট।
তো এই জায়গা থেকে আপনি ওই যে ওয়ান-ইলেভেনের কথা ভাবতে পারেন। এবং ওয়ান-ইলেভেনের পরের সময় কি হলো— ওই যে প্রণব মুখার্জীর বই থেকে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে হাসিনা কেমনে ইলেক্টেড হইছে, এসব বিভিন্ন ধরনের ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কথাবার্তা শোনা যায়। তো শেখ হাসিনা আসার পরে কি হইলো? ওই যে আগে যে গণ আদালত হয়েছিল, সেটারই একটা কন্টিনিউশন আপনি এখন পাইতেছেন। মনে করেন একটা সময় কি হলো— এই যে ওয়ার ক্রিমিনালদের বিচার এবং ২০১৩ সালে আমরা দেখলাম শাহবাগ। আর ২০১৩ সাল মানে ১৪ সালে হচ্ছে ইলেকশন ডিউ। তো সেই ইলেকশনের আগে আগে এই শাহবাগ হইলো এবং সেটার ভিতর দিয়া মনে করেন ২০০৮-এ আওয়ামী লীগ আসলো, তারপরে ২০১৪-তে আওয়ামী লীগকে কিভাবে ক্ষমতায় রাখা যাবে, সেটার ওয়ে হিসেবে মনে করেন শাহবাগ। শাহবাগে ভর কইরা তারপরে ওই যে ওয়ার ক্রাইমের বিচার-টিচার এগুলোর ভিতর দিয়ে হচ্ছে আওয়ামী লীগরে ক্ষমতায় রাখা সম্ভব হলো তখন।
এবং এই যে ওয়ার ক্রাইমের বিচার-টিচার ইত্যাদি, এই জিনিসগুলোতে প্রথম আলোর একটা অবভিয়াস কন্ট্রিবিউশন ছিল। ধরেন এভরিডে বিভিন্ন ধরনের হিউম্যান স্টোরি ছাপা হওয়া— যেটা মনে করেন ২৪-এর পরে এখন কি হয়? ধরেন প্রতিদিন একজন কইরা শহীদের কথা যদি প্রথম আলোতে ছাপা হইতো, হাসিনার বাহিনী এরকম খুন করছে বা ধরেন মুভমেন্টের উপরে গুলি চালাইছে, পিটাইছে ইত্যাদি— এই যে প্রতিদিন একজন দুইজন করে যদি হিউম্যান স্টোরি ২৪-এর মুভমেন্টের উপরে (যেমন ঘটনা ঘটতে পারে) ঘটতো, যেটা প্রথম আলো করে না, এই জিনিসগুলো তারা করছে ৭১ নিয়ে। তো এগুলো হচ্ছে মানুষের মনের ভেতরের জখমটাকে তাজা করে বা নতুন জখম বানায়, তারপরে যখন ডাক আসে তারা তখন রেসপন্ড করে। তো ২০১৩-র যে শাহবাগ, সেটা আসলে এরকম একটা রেসপন্সের মামলা। তো এই জায়গায় ডেফিনেটলি প্রথম আলো সাকসেসফুল হইছে এবং দেখা যাচ্ছে হ্যাঁ, ১৪ সালেও আওয়ামী লীগরে ক্ষমতায় রাখা গেছে এবং এই ২৪ পর্যন্ত আসলে আওয়ামী লীগকে রাখা গেছে।
মাঝখানে বিভিন্ন ধরনের নাটকফাটক হইছে। আসলে যে অনেক এরা খুব আলাদা, তা না। মনে করেন ডক্টর কামাল— ডক্টর কামাল কি করলো? এটা তো কবে, ১৮-র ইলেকশনে, তাই না? ১৮-র ইলেকশনে ডক্টর কামালের নেতৃত্বে বিএনপি-টিএনপিরা যাইয়া তারপরে কি করলো? হাসিনা মনে করেন যে সবাইকে একটা বাড়ি দিয়ে দিল। ডক্টর কামাল বিএনপি-টিএমপিদের বিশ্বাস-নিশ্বাস করায়া তারপরে মনে করেন ধরা খাওয়ায়ে দিল— যেন বা ওকে, আমরা গণতন্ত্রে ফিরতেছি, হাসিনা একটা ফেয়ার ইলেকশন যেন বা করতে দিচ্ছে, এরকম একটা ভঙ্গি হইলো। ভঙ্গি কি হলো? রাইতের যে লাইলাতুল ইলেকশন, এটা হলো।
খেয়াল করেন, প্রথম আলো কি সেই লাইলাতুল ইলেকশন নিয়া মনে করেন যে, হাসিনার সময় তার যদি রিপোর্ট করতে সমস্যাও থাকে, তারপরে এখন কি সে কিছু করতেছে? করতেছে না। কিন্তু এখন প্রতিদিন একটা করে সেন্টারের, একটা করে আসনের সে রিপোর্ট করতে পারতো না? করতেছে না।
এটা মনে করেন যে আগেও, ওই যে আওয়ামী লীগ যে জিতবে তার যে আশা করতেছিল, তখন আপনার ওই যেটা বললাম যে— সকল দায় হলো অন্যদের, খালি শেখ মুজিবের না। মানে ৭২ টু ৭৫-এর যদি চিন্তা করেন, ৭৩ সালের যে ৭ই মার্চের ইলেকশনটা হইছে এবং সেখানে যে ভোট ডাকাতি হয়েছে, মোটামুটি এই ২০১৮ মডেলের একটা ইলেকশন যে করছে, মানে মিক্সড ১৮-১৪ এগুলা মিক্সড একটা টাইপের যে ইলেকশন ডাকাতি হইছে— এটা তো শেখ মুজিবই করছে, না? সেই দোষ তারা শেখ মুজিবকে দেবে না। শেখ মুজিবের এগেইনস্টে ক্যান্ডিডেটও ছিল না, তার নমিনেশন পেপার আগেই তাকে কিডন্যাপ করা হয়েছে, এরকম ঘটনা ঘটছে।
তো এই যে জিনিসটা, এটা আপনার মতিউর রহমান বা প্রথম আলো এই জিনিসগুলো এভাবে করে না। এবং ধরেন এই কামাল হোসেনের ভিতর দিয়া কি হইলো যে, অলওয়েজ আপনার প্রথম আলোর একটা ব্যাকিং হাসিনা অলওয়েজ পাইছে। এবং মাঝখানে খুব সম্ভব ৯৮-তে একটা অভিমানের জায়গা থেকে একটা বদলা নিছে, তারপরে অলওয়েজ সেই স্নেহ পাইছে। এবং ধরেন এখনো আপনার ‘ফ্যাসিস্ট’, ‘ফ্যাসিজম’ এগুলো তো বলেই না খুব বেশি, ‘স্বৈরাচার’ যে কথাটা বলে সেটা একটা ব্যাপার। বা হচ্ছে আওয়ামী লীগ কিভাবে এখন আশ্রয়-প্রশ্রয় পাচ্ছে, এটলিস্ট মনে করেন যে আকাম-কুকাম যে লম্বা সময় ধইরা করছে এক যুগের বেশি টাইম ধইরা, এই জিনিসগুলো তো তারা রিপোর্ট করে না। ২৪-এর মুভমেন্টে যে শহীদ এবং গাজী আছে, তাদের নিয়ে যে হিউম্যান স্টোরি করবে ওই ৭১-এর মতো, সেটা করে না। লাইলাতুল ইলেকশনের যে ব্যাপারগুলা, কাটাকাটি কেমনে হইছে, ওই জিনিসগুলা করে না।
আচ্ছা, কিন্তু আপনার সকলে তো তার পলিটিক্স করবে, তাই না? ঘটনাটা ডেফিনেটলি সে, মতিউর রহমান তার পলিটিক্স করছে এবং তাকে আসলে কামিয়াবই আমাদের ভাবা উচিত বা আমরা দেখতে পাই যে উনি আসলে কামিয়াব হয়েছেন উনার পলিটিক্সে। ফলে এইটা আসলে একটা টিউটোরিয়াল হিসেবে আমরা নিতে পারি বা দেখতে পারি যে কামিয়াবির জন্য কি কি, কোন রাস্তায় হাঁটা যায় বা কিভাবে জিনিসটা করা যায়।
এমনিতে ডেফিনেটলি সার্টেন কতগুলো কন্ট্রিবিউশন বাংলাদেশের মিডিয়ায় কিন্তু প্রথম আলোর আছে, প্রথম আলো ও মতিউর রহমানের। সেটা হচ্ছে মোটামুটি প্রফেশনাল একটা জব সিকিউরিটির যে ব্যাপার— রেগুলার বেতন হওয়া, বোনাস হওয়া— এই যে জিনিসটা, জার্নালিস্টদের অন্যান্য বহু পত্রিকায় কিন্তু এটা হয় না। আপনার বড় বড় যে মিডিয়া হাউসগুলা, মনে করেন যে বড় বড় শিল্পপতির যে জিনিসগুলা, ওসব জায়গায় কিন্তু এরকম হরেক রকমের ট্যাচ-টাচ থাকে। তো এদিক থেকে প্রথম আলো কিন্তু অনেক বেটার। হ্যাঁ, প্রথম আলো ইভেন ডেইলি স্টার— তারা অনেক বেটার। এ যদি আপনি একটা… এটা আমি যেটা বলি ‘মতি-মাহফুজ গং’, তাদের মিডিয়ায় তাদের যে এমপ্লয়ীরা, তারা কিন্তু কম্পারেটিভলি বেটার থাকে। বেটার থাকে মানে হচ্ছে রেগুলার বেতন হওয়া, বোনাস হওয়া— এই যে জায়গাগুলা, মানে আপনার ধরেন একটা চাকরির যে ব্যাপার-স্যাপার, চাকরি যেমন যে যে শর্তে হওয়া দরকার, এই জিনিসগুলো মোর অর লেস তারা মেইনটেইন করে।
কিন্তু এই কামিয়াবির বাইরে আমাদের ধরেন ওনার কাছ থেকে আমরা ডেফিনেটলি ওই জায়গাগুলো আমরা শিখতে পারি যে কিভাবে সে কামিয়াব হইলো। এবং একটা হিউজ মানুষের সাথে, দেশের মানুষের সাথে যে একটা ঝগড়াঝাটি তৈরি হওয়া, সেটারও সার্টেন কতগুলো ব্যাপার আছে। মতিউর রহমান একবার বায়তুল মোকাররমে মাফ চাইছিল। তারপরে এই যে ২৪-এর এই সময় যেটা হইছে যে প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টারে একটা হামলা-টামলা হইছে। কেউ মারা-টারা যায় নাই, মালের উপর দিয়ে গেছে, জানের উপর দিয়ে যায় নাই। ফলে ধরেন এটাকে অন্যরা যতটা ফ্যাটাল হিসেবে দেখে, আমি এতটা ফ্যাটাল হিসেবে দেখি না। এটা দুনিয়ার বহু দেশেই আপনার যখন একটা অটোক্রেটিক শাসক, স্বৈরাচার, ফ্যাসিস্ট— তার যখন পতন হইছে, তার লগে এলাইনড যে পলিটিক্যাল এবং এস্থেটিক যেগুলা, তাদের উপরে অনেক রকমের অ্যাটাক-ফ্যাটাক… আমি জানি আপনার ফ্রান্সে, সার্বিয়াতেও কি যেন এরকম হইছিল… সার্বিয়া না, মানে এরকম বিভিন্ন জায়গায় এই জিনিসগুলো হয়। মানে এটা এতো ইয়ে… মানে ধরেন মালের উপর দিয়ে গেছে, জানের উপরে ওঠে নাই, এটা একটা ভালো জিনিস। কিন্তু বিষয়টা হচ্ছে যে ডেফিনেটলি আপনি যদি একটা অ্যাটাক হয়, সেটা ঠেকানোর দায়িত্ব তো সরকারের, সেই দায়িত্ব তো পালন করতে পারতে হবে। তো সেটা হচ্ছে আমাদের ওই সরকার, ওই পুলিশ তারা সেটা পারে নাই, সেই নিন্দা তো আমাদের করতেই হবে।
বাট পিপলের লগে যে দুশমনি তৈরি এবং একটা ডেফিনেটলি সফল মানুষ না, একটা সার্টেন ব্লকের লগে যে দুশমনি তৈরি করা এবং তারা ধরেন ওই যে বদলা নেয়ার যে জায়গাটা— ওই যে যাদেরকে সে গণ আদালত বা মনে করেন যে এই শাহবাগ-টাহবাগ এগুলার ভিতর দিয়া সে যাদের ক্ষ্যাপাইছে, তারা মৌকা পাইয়া তারা হয়তো রিভেঞ্জ নিছে। কিন্তু এই ধরনের জ্বালানো-পোড়ানো, ভাংচুর— এই রিভেঞ্জ তো আমরা পছন্দও করতে পারি না এবং আমাদের ডেফিনেটলি বিপক্ষে দাঁড়াইতে হবে। বাট প্রথম আলোর প্রতি আমাদের অন্য সমালোচনাগুলো তো আছে।
এই যে মনে করেন আওয়ামী লীগের বিষয়ে যে জিনিসগুলো বললাম, আরেকটা জিনিস হয়তো বলা দরকার— সেটা হচ্ছে প্রথম আলো এই যে নামটা, এটা একটা মজার জিনিস। আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতার যে আনন্দ পাবলিশার্স, ওইখান থেকে ১৯৯৬ সালে একটা বই পাবলিশ হইলো সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের, যেটা আগে ধারাবাহিকভাবে পাবলিশ হইতেছিল— বই হিসেবে আসলো, যেটার নাম হচ্ছে ‘প্রথম আলো’। এটা বেসিক্যালি ১৯ সেঞ্চুরির কলকাতা নিয়া একটা বই, যেইখানে আপনার মেইন ক্যারেক্টার হচ্ছে মনে করেন রবীন্দ্রনাথ আর হলো বিদ্যাসাগর, রামমোহন। এবং ডেফিনেটলি আবার ভিলেন আছে ধরেন আপনার যেটা খারাপ ক্যারেক্টার, বাট আবার মনে করেন একটা ইয়েও আছে ধরেন কন্ট্রিবিউশনকেও এড্রেস করা হয়েছে, ধরেন বঙ্কিমচন্দ্র— এরকম হরেক রকমের জিনিসপত্র আছে।
তো এইটা একটা লম্বা সময় কলকাতা এবং বাংলাদেশেও এদের তো একটা বড় দাবি ছিল যে এটা হলো আপনার কলকাতার মানে বাঙালির জীবনের রেনেসাঁ, এরকম একটা দাবি ছিল। তো সেরকম একটা জায়গা থেকেই আসলে ‘প্রথম আলো’— এই বইয়ের নামকরণ সুনীল এভাবে নাম দিছে। তো প্রথম আলো পত্রিকা যখন হয়, তার দুই বছর আগে ‘প্রথম আলো’ এই উপন্যাস ছাপা হয়েছিল সুনীলের। আমি তখন পড়ছি এবং তখন সেই সময় এটা মনে করেন একটা এক ধরনের আলোড়নের ব্যাপার ছিল। সুনীলের দুই-তিনটা বই ছিল বড় বড়। কলকাতার এরকম দুই-তিনজন রাইটার আছে, সুনীলের একাধিক বই আছে— একটা হলো ‘প্রথম আলো’, তার আগে ‘পূর্ব-পশ্চিম’, ‘সেই সময়’ বলে একটা ছিল। শীর্ষেন্দুর কিছু বই আছে ধরেন ‘গর্ভধারিণী’। ‘গর্ভধারিণী’ আর সমরেস মজুমদারের মনে হয়… শীর্ষেন্দুর ‘দূরবীন’। এরকম বেশ কিছু বই তখন বেশ ভাইব্রেশন তৈরি করছিল।
তো ওই জায়গা থেকেই খুব সম্ভব এই ‘প্রথম আলো’ নামটা নেওয়া হয়েছে। এবং অন্যরা যেভাবে ধরেন ‘ইন্ডিয়ার দালালি’ বা ‘ইন্ডিয়ান ফ্রন্ট’— এইটা তো আসলে এইভাবে বলাবলি তো ওই কনস্পিরেসি থিওরির দিকে যাওয়া হয়। তো আমি ওদিকে আসলে ওইভাবে দেখি না, আমি জিনিসটা এস্থেটিক্যালি ভাবার চেষ্টা করি। মানে হলো— What is beautiful to you? কোনটা আপনার ভালো লাগে? আপনার কাছে সুন্দর কি? প্রথম আলোর কাছে, ডেফিনেটলি প্রথম আলো ও মতিউর রহমান— তার কাছে সুন্দর হলো ‘প্রথম আলো’, এই নামটা সুন্দর। এবং এই নেমিং যখন করা হইতেছে, তখন একই সাথে ১৯ সেঞ্চুরির যেই কলকাতা, যেটা খাড়ায় আছে মনে করেন আপনার কৃষকের উপরে, কৃষকদের টর্চারের উপরে— মানে হলো চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের যে পয়সা, সেই পয়সার উপরে খাড়ায়ে গেছে। কলোনাইজেশনের ভেতরে যেইটা পিপলকে শত্রু হিসেবে ভাবায়।
মনে করেন আপনি ওই ইয়াং বেঙ্গলদের কথা যদি চিন্তা করেন, তখন আপনার এই ১৯ সেঞ্চুরির যে কলকাতার যে বিদ্বৎসমাজ, সেই বিদ্বৎসমাজের কাছে দুশমন কে? দুশমন হচ্ছে এখানকার পিপল। যেটা আস্তে আস্তে মনে করেন ইংরেজের শিক্ষায় যেটা হয়েছে যে, ওই যে আপনার রবীন্দ্রনাথদের কাছে ৬০০ বছরের পরাধীনতা হয়ে উঠছে— মানে হচ্ছে মুসলমানরা বিদেশী, এরকম মানে তার শত্রু হয়ে গেছে ধরেন মুসলমানরা। যেটা এখন ইন্ডিয়ায় যে জিনিসটা দেখতে পাচ্ছেন, এটার ইনিসিয়েশন সেই সময়ে ঘটে। এবং ডেফিনেটলি ১৯ সেঞ্চুরি কলকাতায় ইংরেজরা তার শত্রু না, তার শত্রু হচ্ছে সমাজ, ইভেন হিন্দু সমাজও। আবার অন্যদিকে ধরেন মুসলমান— হিন্দু-মুসলমান যেটাই বলেন না কেন, মানে দেশের নন-কলোনাইজড যে পিপল, তারা হচ্ছে কলকাতার এদের শত্রু।
মেইন ডিফারেন্সটা কি? ডিফারেন্সটা হচ্ছে ওই যে কৃষক এবং কৃষকের উপরে টর্চারের ভিতর দিয়া যেই জোর কইরা আপনার অতি খাজনার ভিতর দিয়ে যে পয়সা, কৃষকদের না খাওয়াইয়া মারার যে ব্যবস্থা— সেই ব্যবস্থার ভিতর যে পয়সাটা আসতেছে, সেই পয়সাটাই কলকাতা চলতেছে এবং ইংরেজ চলতেছে। এইটাকে রেনেসাঁ হিসেবে দেখা। যখন মতিউর রহমান ‘প্রথম আলো’ পত্রিকার নাম তৈরি করে, তখন আসলে ওইটাকেই রেনেসাঁ হিসেবে দেখে, মানে রিকগনাইজ করে।
তো ফলে তার কাছে বিউটিফুল কি? বিউটিফুল হচ্ছে এই ‘প্রথম আলো’— এই শব্দটা, প্রথম আলো। এরপরে হলো আপনার এখানে একটা জিনিস মনে করা দরকার আছে— সেটা হচ্ছে রবীন্দ্রনাথের একটা কবিতা আছে, “আজি এ প্রভাতে রবির কর কেমনে পশিল প্রাণের পর”। তো ওইখানে আসলে কবিতার নাম হচ্ছে ‘নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ’। তো এখানে আসলে এই যে প্রথম আলোর ওই ব্যাপারটা আছে, “আজি এ প্রভাতে রবির কর”— তো প্রথম আলো মানে আপনার আলো, আপনার যে আন্ধার মন, সেখানে যখন ফার্স্ট হিট করে তখন যে জিনিসটা হয়। সিম্বলিক— মানে ধরেন কলকাতা রেনেসাঁ, রবীন্দ্রনাথের ওই কবিতা, সুনীলের এই বই এবং এই প্রথম আলো— এগুলো আসলে একটা এস্থেটিক দলা। এই এস্থেটিক দলাটা একটা আরেকটাকে নার্চার করে।
তো আমার মনে হয় যে প্রথম আলো এই যে বাংলাদেশের পিপলের লগে তার যেই একটা ধরেন আমজনতার লগে তার যে একটা দুশমনির ইয়ে আছে, একটা সিলসিলা আছে— এই সিলসিলার ভেতরে বা সিলসিলার কারণ হিসেবে হয়তো ওই জিনিসটাকে পাওয়া যায়। যেখানে হচ্ছে আপনার ১৯ সেঞ্চুরির কলকাতা— সেটাকে রেনেসাঁ হিসেবে দেখা এবং কলোনাইজেশনকে প্রথম আলো হিসেবে দেখা। এবং এখানকার যা কিছু নেটিভ— মানে এখন যেহেতু আবার ডান-বাম একটা ইয়ে ভাগাভাগি হইছে, তো ফলে প্রথম আলোর এখন বা বাংলাদেশের এই বামাচারীদের এখন ইন জেনারেল পজিশন হচ্ছে যা কিছু নেটিভ তাই আসলে ডান, এবং ডান মানে হলো একটা গালি, যেখানে বাম হলো আসলে একটা তারিফের শব্দ।
তো প্রথম আলো সেইটাকে কন্টেইন করে, মানে এটাকে ধরেন ওটাকে বেস কইরা… এবং ওই বেজের উপরে সে খাড়ায়ে আছে। এইভাবে হচ্ছে যে সে আপনার এমন একটা সেক্টকে সে আসলে রিপ্রেজেন্ট করে, যেই সেক্টটা আপনার পিপলের সাথে একটা নেসেসারি দুশমনির সম্পর্কের ভেতরে থাকে এবং ডেমোক্রেটিক হইতে পারে না। এটার সাথেই আপনার… মানে এটার এই ডেমোক্রেটিক হইতে না পারার জায়গা থেকেই তারা মনে করেন আওয়ামী লীগ না জেতায় অবাক হয়। আবার ধরেন এই মতিউর রহমান বলেন, সিপিবি বলেন— তারা হচ্ছে শেখ মুজিব যখন বাকশাল করে, তখন সেই বাকশালের ভেতরে তারা একীভূত হয়ে যায়। একদম মিলামিশা, একদম মনে করেন যে আপনার পানির ভেতরে চিনির মত একদম গলে গেল, আওয়ামী লীগের ভেতরে এরকম ভাবে গলে গেছে— মানে বাকশালের ভেতরে। এটা হচ্ছে ওই যে ডেমোক্রেটিক হইতে না পারা, না চাওয়া, এক ধরনের ঘেন্না এবং একটা আপনার নন-লোকাল, মানে বাইরের একটা এস্থেটিক্সকে নার্চার করা, আপহোল্ড করা এবং দেশের আমজনতার লগে এক ধরনের দুশমনির রিলেশনের ভেতরে থাকা। যেখানে হচ্ছে এগুলা খুবই লিঙ্কড— মনে করেন যে প্রথম আলো, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, ধরেন ‘আলোকিত মানুষ চাই’… মানে এরা অন্ধকারে আছে মনে করেন! হুমায়ুন আজাদ— এই যে জায়গাগুলা, যেটা হচ্ছে কলকাতা, প্রথম আলো, সুনীলের প্রথম আলো— এই জায়গাগুলো আসলে একটা (যেটাকে বললাম) এটা একটা এস্থেটিক দলা, এই দলাটা এইভাবে কাজ করে।
ফলে মোটের উপরে এই কারণে প্রথম আলো এবং মতিউর রহমান আমার কাছে খুবই ইন্টারেস্টিং একটা কেস এবং এটা মজাই লাগে।
অনেক লম্বা তো আলাপ করলাম। কিন্তু তারপরে একটা জিনিস হয়তো বলা দরকার— সেটা হচ্ছে ২৪-এর যে হাসিনা বিরোধী মুভমেন্ট, এখানেও ডেফিনেটলি ধরেন তার তো হাসিনার যেই বিভিন্ন আকাম-কুকাম এগুলা নিয়ে ওই মাত্রায় না বললেও কিছু না কিছু তো লিখছে। হাসিনাকে তো ধরেন আরো নম্র আচরণ করতে, ডেফিনেটলি এরকম খুনটুন করবে— এটার পক্ষে ডিরেক্টলি প্রথম আলো দাঁড়াইছে এরকম কমপ্লেন করা ঠিক হবে না, প্রথম আলো অনেক ভালো রিপোর্টও করছে।
কিন্তু দেখবার বিষয় হচ্ছে যে, বাংলাদেশের বড় বড় ইতিহাসের বড় বড় যে ঘটনা, সেই ঘটনায় মিডিয়াগুলো যেভাবে রোল প্লে করছে— ওই যে বললাম যে ধরেন ৭০-এ ইত্তেফাক, এরশাদের সময়… ধরেন শেখ মুজিবের সময় ছিল ভাসানীর একটা পত্রিকা ছিল, ভাসানীর পত্রিকার নাম হচ্ছে ‘হক কথা’। তারপরে হলো এরশাদের সময় মনে করেন ওই যে শফিক রহমানের ‘যায়যায়দিন’ ছিল একটা সাপ্তাহিক, ওটা খুবই ভাইব্রেন্ট একটা জিনিস ছিল। পরে ওই যে ভোরের কাগজ, তারপরে প্রথম আলো— এই যে জিনিসগুলা, ২৪-এর বেলায় এগুলোকে যদি আপনি কনভেনশনাল মিডিয়া চিন্তা করেন, ২৪-এর বেলায় এই কনভেনশনাল মিডিয়া আসলে আর আপনার ডিসাইডিং ফ্যাক্টর হইতে পারে নাই। ওটা ইম্পর্টেন্ট দেখবার জায়গা।
ফলে প্রথম আলো তার ওই গুরুত্বটা হারাইছে। এই সময় ২৪-এর যে আপনার রিভল্ট এবং রেভলুশন, এখানে মেইন রোলটা প্লে করছে সোশ্যাল মিডিয়া। ধরেন ইউটিউব, টিকটক থেকে শুরু করে ফেসবুক, স্পেশালি ফেসবুক এবং ইউটিউব— এই জায়গাগুলো হচ্ছে আপনার মেইন রোল প্লে করছে। ধরেন কেউ ছোট, কেউ বড়— যে যেমনি পারছে এরকম মেবি হাজার হাজার মানুষ তারা হচ্ছে তার তার জায়গা থেকে বলাবলি করছে। যেটা হচ্ছে কনভেনশনাল মিডিয়া, ফরমাল মিডিয়া— এটা একতো হচ্ছে হাসিনার কন্ট্রোল, দুই হলো তারা আসলে করতেও চায় নাই।
করতে চায় নাই এটা কেন বলি? কারণ ধরেন দেশ থেকে যেগুলো পাবলিশ হয় নাই— যেমন ওই যে নেত্র নিউজ, তারপরে যে আল জাজিরা হইছিল ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টারস মেন’, নেত্র নিউজে হাসিনার সময় তো ওই যে আয়নাঘর-টায়নাঘর এগুলো নিয়ে রিপোর্ট ছিল— তো এইগুলো তো হচ্ছে যে হাসিনার কন্ট্রোলের কারণে দেশে ফলোআপ করা যায় নাই, দেশের মিডিয়া করতে পারে নাই। কিন্তু হাসিনা পালাবার পরেও কিন্তু এগুলা কোনটা ওইভাবে এই দেশের যে প্রথম আলো এবং অন্য মিডিয়াগুলা, এগুলা কিন্তু কাভার করে নাই যে হাসিনার কারণে কি কি তারা করতে পারে নাই! এটা কিন্তু তারা ওইভাবে কাভার করে নাই। এজন্য বলতে চাইলাম যে, এটা যে সবসময় হাসিনার কারণে করতে পারে নাই বা হাসিনা করতে দেয় নাই তা না, কখনো কখনো উইলিংলি তারা এটা করতে চায় নাই— এটা হলো দেখবার বিষয়।
ফলে যেটা হয়েছে যে, ওই নেত্র নিউজ বা আল জাজিরা বা হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া— এইগুলা যেইভাবে পিপলকে মুভ করতে পারছে, সেইটা আসলে এই কনভেনশনাল মিডিয়া পারে নাই। এবং সরকারের পক্ষ থাইকাও, হাসিনার পক্ষে থাইকাও আসলে পিপলকে থামাইতে পারে নাই। মানে মিডিয়া এজ এ প্রপাগান্ডা মেশিন, সরকারের যে এজেন্ডা সেটা যে ফুলফিল করে দেবে, সেটা আসলে এই ফরমাল মিডিয়াগুলা পারে নাই। তো প্রথম আলো পারে নাই।
ফলে ২৪ এক অর্থে প্রথম আলোর কাইন্ড অফ… প্রথম আলো এবং অন্য কনভেনশনাল মিডিয়াগুলোর ইররেলেভেন্ট হইয়া উঠতে থাকা আর কি, সেই হিসেবে রিড করা ভালো। মানে এখনো তার প্রতিপত্তি তো টের পাওয়া যায়, কিন্তু একই সাথে এটা আমার মনে হয় যে, এই পত্রিকাগুলা নিজেদের গুরুত্ব হারাবার একটা ঘটনা এই ২৪-এর এই মুভমেন্ট।
এখন দেখা যাক সামনের দিনে কি হয়।
Leave a Reply