হযরতেরা, দোস্ত এবং দুশমনেরা—সালাম।

গত কিছুদিনে কয়েকটা ঘটনা ঘটেছে। যেমন, কয়েকটা বারে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মদ-সুরাসমেত বেশ কিছু জিনিসপত্র আটক করেছে। এর বাইরে মাঝেমধ্যে পুলিশ আবাসিক হোটেলে ঢোকে, মেসে বা বাসাবাড়ির ভেতরে ঢুকে মানুষজন ধরে। আবার এডমিনের লোকজনেরও মাঝেমধ্যে বোটানিক্যাল গার্ডেন বা বিভিন্ন পার্কে গিয়ে কাপলদের ধরার একটা কেস আছে।

এই যে জিনিসগুলো, এগুলা অবশ্য আগেও ছিল। কিন্তু এটার একটা রাজনৈতিক ডাইমেনশন আছে।

ডাইমেনশনটা হলো, এখন আমাদের যে বিএনপি সরকার, তারা দুটো কাজ করতেছে। একদিকে বাংলাদেশে বিরোধী দলের যে পলিটিক্স, পলিটিক্যাল পজিশন, রিফর্ম বা ইন্ডিয়ার লগে রিলেশন, এই জিনিসগুলা বিএনপি ঠিক এড্রেস করতেছে না। অন্যদিকে একটা এজাম্পশন আছে যে, বিরোধী দল হচ্ছে ইসলামের লগে বেশি এলাইনড।

ঐতিহাসিকভাবে বিএনপির লগে মুসলমানদের বা তৌহীদ জনতার একটা রিশতা ছিল, তারা সংবিধানে বিসমিল্লাহ যুক্ত করেছিল ইত্যাদি। কিন্তু শেখ হাসিনা পালাবার পরে সেই সম্পর্কটা অন্যদিকে টার্ন নিছে। এখন বিরোধী দল যখন ইসলামের দিকে এলাইনড, তখন বিএনপি মুসলিম জনগণের কাছে প্রুভ করতে ট্রাই করতেছে যে, শুধু ওই ইসলামিস্ট দলগুলোই ইসলাম না, বিএনপির ভেতরেও অনেক ইসলাম আছে।

এটা প্রুফ করার তরিকা হিসেবে তারা এসব অভিযান বেছে নিছে। এজাম্পশনটা হলো, ইসলাম যেহেতু মদ বা ব্যভিচার টাইপের জিনিসপত্র ডিসলাইক করে, আর বিএনপি যেহেতু এগুলাই ধরতেছে; তার মানে বিএনপি মুসলমানদের পছন্দের কাজটাই করতেছে বা অনৈসলামিক জিনিস উচ্ছেদ করতেছে। এই কথাটা বলে তারা একটা স্টেটমেন্ট দাঁড় করাতে চায় যে, বিরোধী দল যে ইসলাম বা মুসলমানদের এজেন্সির দাবি করে তা সত্য না, বরং বিএনপিই হলো মুসলমানদের আসল এজেন্সি।

কিন্তু এতে আল্টিমেটলি সমাজে ব্যক্তি মানুষের স্পেস আরো ছোট হয়ে আসছে। ইসলামিস্ট পলিটিক্যাল পার্টিগুলো তাদের জায়গা থেকে মোরাল পুলিশিং বা নজরদারি করতেছে, আর অন্যদিকে বিএনপির কাছে মানুষের যে আসল দাবিগুলো ছিল, যেমন গণভোটে ৭০% মানুষ রিফর্ম চাইছে, জাস্টিস সিস্টেম ঠিক করা, হরেক রকমের ইকোনমিক প্রেসার কমানো, সেগুলো তারা করতেছে না।

রাষ্ট্রের যে যে দরকারি চেঞ্জ বা রিফর্ম করা দরকার, সেগুলো না করে বিএনপি একটা শর্টকাট বানাইছে। তারা ব্যক্তি মানুষের ওপর হামলা চালিয়ে মুসলিম জনগণকে তুষ্ট রাখতে চায়, যাতে বিরোধী দলের পলিটিক্সের জায়গায় তাদের স্টেকটা বজায় থাকে। আর এর মাধ্যমে তারা মূল সংস্কারের দরকার, জাস্টিস সিস্টেম, পুলিশিং, পাবলিক ওয়েলফেয়ার বা নিজেদের লোকজনের চাঁদাবাজির মতো ইস্যুগুলো এড়াইয়া যাচ্ছে।

এটা ডেফিনেটলি রাষ্ট্র, সমাজ এবং ব্যক্তি মানুষের জন্য খুবই ক্ষতিকর একটা কাজ। এর মাধ্যমে সমাজের ওপর যে পুলিশিং, সেটাকে আরো এনহ্যান্স করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষকেও একরকম উসকে দেওয়া হচ্ছে যে, কোথাও কিছু দেখলে তোমরাও ধরো, পুলিশে খবর দাও। বাস্তবে যেটা হয়, কাউকে ধরে কানধরা বা হেনস্তা করার পর পুলিশ হয়তো তাকে উদ্ধার করে, কিন্তু ভিকটিম হিসেবে না, উল্টো ‘পাবলিক নুইসেন্স’ বা অনৈতিক আচরণের অফেন্সে তার নামেই মামলা দেওয়া হয়।

মানুষের ঘরে, আবাসিক হোটেলে বা মেসে গিয়ে এসব অভিযান চালিয়ে বিএনপি ধর্মের জায়গা থেকে মুসলিম জনগণকে খুশি রাখার ট্রাই করতেছে, যাতে বিরোধী দলের সাথে মুসলমানদের এলাইনমেন্টের জায়গায় নিজেদের স্টেকটা বহাল রাখা যায়।

Leave a Reply

dinduniya