হযরতেরা, দোস্ত এবং দুশমনেরা, সালাম আপনাদের।

আমি বলব যে আপনারা একটু দেশের বিভিন্ন স্ট্যাটিস্টিক্স দেখবেন, পরিসংখ্যান। তার ভেতরে একটা হলো ধরেন, আপনি যদি গত ১০ বছর ১৫ বছরের চিন্তা করেন— গত ১০-১৫ বছরে বাংলাদেশের যে প্রাইমারি স্কুল, এটার সংখ্যা ঠিক বাড়ে নাই, আসলে কমছে। আর অন্যদিকে ধরেন কওমি মাদ্রাসা, এটা মোটামুটি ডাবল হইছে আপনার, ১৩,০০০ থেকে ২৬,০০০ এরকম। প্রাইমারি স্কুল যে কমছে, এবং অবভিয়াসলি ধরেন আমাদের যে এসএসসি পরীক্ষা হয় না, ক্লাস ১০-এর পরে যে পরীক্ষাটা হয়— সেইখানেও ক্যান্ডিডেট কমছে, কওমি শিক্ষা বোর্ডে হিউজ বাড়ছে। ওরকম ধরেন ডাবল হইছে, দাখিল যে ইয়ে হয় সেখানেও বাড়ছে।

এই জায়গাগুলো তো আসলে সার্টেন কিছু ট্রেন্ড এস্টাবলিশ করে, তাই না? ট্রেন্ডটা কি? ট্রেন্ডটা হলো যে, দেশের আমজনতার ভেতরে যদি আপনি এডুকেশনের ব্যাপারে ভরসার কথা ভাবেন— তাইলে বেসিক্যালি বাংলা মিডিয়ামের উপরে দেশের আমজনতার ভরসা কমছে এবং আরবি মিডিয়ামের উপরে এই ভরসা বাড়ছে। বাংলা মিডিয়ামের উপরে যতটা কমছে, আরবি মিডিয়ামের উপরে ততটা বাড়ছে।

এখানে প্রাইমারি স্কুল যে কমছে এবং বন্ধ হইছে, সেটার একটা কারণ হলো বহু স্কুলে স্টুডেন্ট নাই। অনেক জায়গায় দেখা গেছে যে দুইটা স্কুল মার্জ করে দিছে, দুইটা স্কুল একটা করে দিছে। কারণ কোনো একটা স্কুলে যে কয়জন স্টুডেন্ট থাকার কথা, সেই পরিমাণ স্টুডেন্ট নাই।

এখন এই ব্যাপারটা তো আসলে চিন্তা করার দরকার, তাই না? যে কেন বাংলা মিডিয়ামের উপরে ভরসা কমলো? বাংলা মিডিয়াম কেন ভরসা হারাইলো? আবার উল্টাদিকে আরবি মিডিয়াম, সে কেন আমজনতার নতুন ভরসার জায়গা হয়ে উঠলো?

অনেক ধরনের কারণের কথাই ভাবা যায়। ইভেন ধরেন যেই ইসলামী ওয়াজ মাহফিল হয়, এগুলোর কথা বলা যায়। ওয়াজ মাহফিলে এক ধরনের আরবি মিডিয়ামের এডুকেশনের একটা প্রচার ঘটে। তারা প্রচার করে, প্রায়শই দেখা যায়। এবং মেবি এগুলোর ভিতর দিয়েই এক ধরনের আপনার যে দ্বীনি শিক্ষা, সেটা যেন আরবি মিডিয়ামে ঘটে; বাংলা মিডিয়ামে দ্বীনি শিক্ষা হয় না।

মানে বাংলা মিডিয়ামে যেকোনো শিক্ষাই তো আসলে হওয়ার কথা দ্বীনি শিক্ষা, তাই না? মানে ধরেন ইসলাম বা দ্বীন— দ্বীনের যে আইডিয়া, এই আইডিয়ার ভেতরেই তো আসলে এলেম একদম বাই ডিফল্ট ইনক্লুডেড, এটা আলাদা করে আপনার বলার দরকার নাই। আপনি যদি অটো মেকানিক আছেন না, এখন যে অনেক অটো হয়, অটো বানাইতে শিখলেন— এটার যে ইঞ্জিনিয়ারিং, আপনি মনে করেন একজন ওস্তাদী বিদ্যার ইঞ্জিনিয়ার, সেটাও আসলে দ্বীনি শিক্ষা। পয়েন্ট হলো যে, আপনি এই শিক্ষাকে কিভাবে ইউজ করতেছেন। এবং শিক্ষার ব্যাপারে ধরেন ইসলামের তো সার্টেন কতগুলা রুল আছে— যে কোনো একটা কাজ করার সময় মনে করেন বিসমিল্লাহ বইলা আপনি খাওয়া শুরু করলেন, তারপরে খাওয়ার পরে আলহামদুলিল্লাহ বললেন, তখন আপনার যে খাওয়া, এই খাওয়াটাও কিন্তু এবাদত হইলো। আপনি একটা কাজ করার বেলায় বিসমিল্লাহ শুরু করলেন, শেষ করে আলহামদুলিল্লাহ বললেন, তখন আপনার এই পুরা ব্যাপারটা— এবং স্পেশালি সেইসব কাজ যেগুলো সমাজকে সার্ভ করে, সমাজের খেদমত করে— সেটা অবশ্যই দ্বীনি শিক্ষা।

কিন্তু কোন একভাবে এটা এস্টাবলিশ হইছে যে দ্বীনি শিক্ষা হলো আরবি মিডিয়ামে ঘটে, আর বাংলা মিডিয়ামে দ্বীনি শিক্ষা ঘটে না। এবং এই জায়গা থেকে এক ধরনের ধরেন বাংলা মিডিয়াম আস্তে আস্তে ভরসা হারাইতেছে, আর আরবি মিডিয়াম সে আমজনতার ভরসা গেইন করতেছে।

এখন আমরা যারা শিক্ষা নিয়ে ভাবি, তারা কি এই জিনিসগুলো আসলে চিন্তা করছি যে কেন এই ঘটনাটা ঘটতেছে?

এটা এক নম্বর। দুই নম্বর বিষয় হলো, ধরেন আপনার এখনকার ফর্মের যে আরবি মিডিয়ামের শিক্ষা বাংলাদেশে, এটা শুরু হয়েছে সেই ইংরেজের কলোনিয়াল এরায়। তো সেই সময় তো আসলে একটা সার্টেন কারণ ছিল। কি কারণ? ধরেন হিন্দুদের ভেতরে যেমন ঘটছে, মুসলমানদের ভেতরেও ওই জিনিসটা ঘটছে— যে তারা একটা কালচারাল এক্সিস্টেনশিয়াল ক্রাইসিসে পড়ে গেছে, যে কালচারটা কি টিকবে? আপনারা জানেন যে মিশনারি— ওই যে নজরুল যে ‘মৃত্যুক্ষুধা’ লিখছিল, ওইখানে হচ্ছে যে খাবার দিয়ে তারপরে খ্রিস্টান বানানো, এরকম কতগুলো ঘটনা আছে। মাইকেল মধুসূদন যেমনি করে খ্রিস্টান হইছে, এরকম বহু হিন্দু খ্রিস্টান হয়ে গেছে। ফলে হিন্দু-মুসলমান দুই পক্ষই আসলে খুবই টেনশনে ছিল যে তারা কালচারালি সারভাইভ করতে পারবে কিনা। ফলে রেজিস্টেন্সের জায়গা থেকে আরবি মিডিয়ামের শিক্ষা— এটা একটা ভ্যালু ছিল এবং একটা পয়েন্ট ছিল। কারণ এই এক ধরনের ডিটাচমেন্টের ভিতর দিয়া আপনার রেজিস্টেন্স জারি রাখা এবং তার যে কালচারাল আইডেন্টিটি, সেইটাকে রক্ষা করা, প্রিজার্ভ করা— এটা একটা কনজারভেশনিস্ট এটেম্পট।

এখন ধরেন ‘৪৭-এ চলে গেল ইংরেজ, পাকিস্তান কায়েম হইলো। পাকিস্তান কায়েম হওয়ার পরে ‘৭১-এ আবার বাংলাদেশ হইলো। মাঝখানে আমরা এই হাসিনা পার হইলাম, তার আগে মুজিব পার হইলাম। কিন্তু পাকিস্তান হওয়ার পর থেকেই আসলে আপনার পাকিস্তানে এবং পরের বাংলাদেশে মুসলমানরা বা মুসলমানদের যে কালচারাল আইডেন্টিটি, ইসলামী যে চিন্তাটা— যে নিজেদের কনজার্ভ করা, প্রিজার্ভ করা— এই জিনিসটা ইংরেজ আমলের মত ওরকম করে আর অর্থময় নাই। মানে হলো যে, মুসলমানরাই যে জায়গায় আছে, যে মেজরিটি এবং তাদের উইলে যে রাষ্ট্র চলে, সেই রাষ্ট্রে আলাদা কইরা সে কার এগেইনস্টে তার ওই কালচারাল স্টেটমেন্টটা দেয়, এটা তো আসলে খুব অর্থময় নাই। যদিও মনে করেন যে সেই কলোনিয়াল শিক্ষায় যারা শিক্ষিত, তারা এখনো পাকিস্তানে এবং এখনো বাংলাদেশের ক্ষমতার উপরে বইসা রয়েছে; কিন্তু ডেফিনেটলি এখন আর মুসলমানদের যে রাজনৈতিক পক্ষ, তাদেরকে আর দুর্বল ভাববার কোন অপশন নাই, তারা এখন একভাবে ক্ষমতায়।

এরকম একটা অবস্থায় আপনার কাকে আর রেজিস্ট করতেছেন? এবং রেজিস্টেন্সের নামে আপনি কিভাবে আলাদা থাকবেন? এই যে আলাদা থাইকা তারপর হচ্ছে যে আপনি যেন রেজিস্টেন্স ঘটাইলেন, এটা তো আসলে অনেক অর্থময় আর থাকে না।

তো এই যে কয়েকটা জিনিস যদি আপনারা মিলান— তাইলে একদিকে হচ্ছে যে মানুষের ওই ভরসাটা গেইন করতেছে, এবং আপনার ইসলামী পক্ষ বা মুসলমানদের যে রিলিজিয়াস লিডারশিপ, তারা একভাবে বলতেছে যে বাংলাদেশে অন্য যে শিক্ষা ব্যবস্থা আছে, সেই জিনিসটা আসলে ঠিক দ্বীনি না এবং সেটা ইভেন দ্বীনের এগেইনস্টের একটা শিক্ষা। তো এটা একটা প্রবলেমেটিক জায়গা। এটা তো কোনো এক ধরনের রিকনসিলিয়েশন হবার কথা ছিল। পাকিস্তান হওয়ার পরেই দুই পক্ষ, দুইটা আলাদা এডুকেশনাল সিস্টেম— তারা যে পয়েন্ট থেকে শুরু হয়েছিল, সেই রাজনৈতিক অবস্থা যেহেতু আর নাই, নতুন পলিটিক্যাল সিচুয়েশনে তারা কিভাবে ইন্টার্যাক্ট করবে, সেটার একটা নেগোসিয়েশন হওয়া সম্ভব ছিল। বাস্তবে সেটা যদিও হয় নাই।

এরপরের বিষয় হলো যে, আমরা যদি খেয়াল করি ধরেন এই যে দ্বীনি শিক্ষা বা কওমি বা অন্য যে আরবি মিডিয়ামের শিক্ষা, এখানে যারা শিক্ষিত হয়— ধরেন হাফেজ হয় অনেকে, অনেকে হচ্ছে দাওরায়ে হাদিস পাস করলো বা হেফজ করলো— করার পরে এদের যেই ওয়ার্ক স্টেশন বা এদের যে ওয়ার্কপ্লেস, ওয়ার্ক এরিয়া, এমপ্লয়মেন্ট সেক্টর, এইটা আসলে খুব বেশি ওই অর্থে নাই। নাই মানে হচ্ছে যে ধরেন, সে ধরেন কিছু মসজিদ আছে এরকম কিছুই আছে, কোরবানির সময় আছে, মিলাদ আছে, এরকম কতগুলো ঘটনা ঘটলো, কেউ ইসলামী বক্তা হইলো, আর বাকিরা হলো তার একটা নতুন একটা মাদ্রাসা দিয়ে তারপরে হচ্ছে যে ওটার শিক্ষক হওয়া— এটার বাইরে তার খুব বেশি এমপ্লয়মেন্ট সেক্টর নাই। এটা আমাদের যে স্টেট ফরমেশন, সেইখানে এটার দুর্বলতা।

আবার একই সাথে আরবি মিডিয়ামের যে লোকজন, তারাও যে খুব বেশি এটেম্পট নেয়, এটা আমি খুব দেখতে পাই না। মানে আমি তাদের একটা পেশাগত অর্থে স্যাচুরেটেড দশা দেখতে পাই— যে তাদের কেবলমাত্র আরেকটা আরবি মিডিয়ামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাস্টার হওয়া ছাড়া নতুন কোন কর্মক্ষেত্র তারা ওভাবে বানাইতেছে না।

অথচ ধরেন আপনার বিজনেসের লগে কি ইসলামের দ্বীনি যে ব্যাপার, মুসলমানি— এটার কোন বিরোধ আছে? বিরোধ নাই। বরং বিজনেস আসলে দায়িত্ব এবং এটা পরোপকার। এবং ধরেন ইসলামের যে রুলস অ্যান্ড রেগুলেশন বিজনেসের বেলায়, সেটা বাংলাদেশের জন্য খুব দরকারিও। কি অর্থে? যে এই যে মজুদদারি-আড়তদারি হয়, আপনার চার গুণ পাঁচ গুণ করে হঠাৎ করে দাম বাড়ায় দেয়— সেখানে আপনারে ইসলাম বলতেছে যে তুমি ১০০%-এর বেশি প্রফিট করতে পারবা না। এই যে ব্যাপারটা, এটা ডেফিনেটলি পিপলের জন্য মোর টলারেবল একটা সিচুয়েশন তৈরি করে কেনাকাটার বেলায়। মানে ধরেন এটা যদি সকল মজুদদার-আড়তদার তারা যদি মানতো, তাইলে হচ্ছে মনে করেন দেশের যে আকাল— মানে দুর্ভিক্ষ থেকে শুরু করে মানুষ যে কিনতে পারে না, মেলনোরিশড সিচুয়েশন— অনেকখানি কিন্তু কমে যেত। এবং এই যে সম্পত্তির যে আপনার খুবই ফাঁপানো একটা সিচুয়েশন যে হঠাৎ একটা হাত বদল হয়ে যাওয়া, অভাবের ভেতরে ফেলাইয়া…

এগুলার যে স্টাডি, পড়ালেখা, পরীক্ষা— এই জিনিসগুলো আছে। এবং সূরা-কেরাত থেকে শুরু করে আপনার নামাজের নিয়ম-কানুন, এই জিনিসগুলো আছে। কোনভাবেই হয়তো আপনি এই অপোজিশনটা ক্রিয়েট করতে পারেন না। কিন্তু যেহেতু আপনার একমাত্র কর্মক্ষেত্র দাঁড়ায়িছে হচ্ছে ওইটা— যে আপনি নতুন একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দেবেন— ফলে যেটা হইছে যে, আপনার বাংলা মিডিয়ামের যে পোলাপান, তাদেরকে আপনার এই জায়গায় নেয়ার জন্য এই নিন্দামন্দটা করতে হয়।

আরেকটা বাংলা মিডিয়ামের ভিতরের যে ইন্টারনাল একটা বড় প্রবলেমের জায়গা— যেখানে আরবি মিডিয়াম একটা বাড়তি অফার দেয় আমজনতাকে— সেটা হলো যে, আমাদের এখানে বাচ্চারা বাপ-মায়ের হিউজ টাইম নেয়। এই যে টাইম নেয়, ফলে যেটা হইছে যে, বাপ-মারা বাচ্চাদের জন্য একটা ডেকেয়ার সিস্টেম খোঁজে মনে মনে, এবং সেইটা প্রোভাইড করে আরবি মিডিয়াম। মানে হচ্ছে ধরেন একটা বাচ্চা, তাকে সকালবেলা বাপে অটোতে করে নিয়ে গেল— বাপে অটো চালায় নিয়ে গেল— নিয়ে যেয়ে মাদ্রাসায় ঢুকায দিল। তারপরে আবার রাত ১০:০০ টার সময় সে যখন অটো-মটো চালাইয়া বাড়িতে ফেরে, তখন ওই বাচ্চারে নিয়া গেল। এরপরে যেটা হয় যে, বাপ এবং মা তারা একটা ফুসরত পাইতেছে তাদের নিজেদের লাইফের জন্য, অন্যান্য কাজকর্মের জন্য। এবং এই বাচ্চাটা ওখানে ১২ ঘন্টা মোটামুটি একটা ডে কেয়ার সিস্টেমের মত থাকতে পারতেছে। এই যে সার্ভিসটা, এই সার্ভিসটা আরবি মিডিয়াম এখন দিচ্ছে, এই মোমেন্টে দিচ্ছে। ফলে এইটা হচ্ছে ওই যে বাড়তি ভরসার কথা বললাম, সেই ভরসা পাওয়ার একটা বড় কারণ। মানে নিতান্তই থিওলজিক্যাল মোটিভেশন না, এটা একটা খুবই আর্থ-সামাজিক ব্যাপার আছে। যেখান থেকে সে মনে করেন— এই অটোওয়ালা সে ৩,০০০-৫,০০০ টাকা দিয়া বাচ্চাকে রাখে, পড়ালেখাও হয়, আবার ওই ডেকেয়ার সিস্টেম হিসেবে সে ওই বাচ্চাকে ও জায়গায় রাখতে পারতেছে। এরকম কোন কিছু তো বাংলা মিডিয়াম অফার করে না।

এবং এই রিলিজিয়াস ইয়ে থাকার কারণে এক ধরনের ফিলান্থ্রপিক সুবিধা ওই জায়গায় পায়। মনে করেন যে বিভিন্ন দান-খয়রাতের একটা ব্যাপার আছে, সেই জিনিসটাও বাংলা মিডিয়াম পায় না। এবং বাংলা মিডিয়ামের যে লোকজন, তারা— এই ধরেন আওয়ামী লীগের কথা যদি চিন্তা করেন, তারা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার কামাই করে বিদেশে নিয়ে গেছে। কিন্তু এটা যদি মনে করেন দেশে এরকম ফিলান্থ্রপিক অ্যাক্ট হতো, গ্রামে গ্রামে যে বাচ্চাদের রাখার জায়গা নাই, সেখানে স্কুলের লাগোয়া যদি এরকম একটা ডে কেয়ার সেন্টার থাকতো, সেখানে কি হইতো? তখন তারা ইজিলি ওখানে রাইখা পড়াইতে পারতো। এই আর্থ-সামাজিক কারণেও এই ঘটনাটা ঘটে।

মোটের উপরে আমি বলব যে, আমাদের এই জিনিসগুলো আরেকটু ভাবাভাবি করা দরকার। বাংলা মিডিয়ামের দরকার, আরবি মিডিয়ামের দরকার। আর আরবি মিডিয়াম যেহেতু মানুষের এই ভরসা পাচ্ছেন আপনারা, ফলে আপনাদের তো নিজেদের যে একাউন্টেবিলিটি এবং আপনারা কিভাবে এই বাচ্চাদের সিকিউরিটি এনসিওর করবেন, সেটার ব্যবস্থাও তো চিন্তা করতে হবে। এটা তো কেবলমাত্র আপনি এরকম যদি ছাইড়া দেন, তাইলে আপনাদের ভেতর ভেতরেই কতগুলা লোক ঢুইকা তার ধান্দা হাসিল করবে।

ফলে এই জিনিসগুলা মাথায় রাখতে আমি বলব, এবং আমি আশা করব যে আমাদের বাচ্চারা আরেকটু নিরাপদে থাকবে— যেখানেই থাকুক না কেন, আরেকটু নিরাপদ থাকুক।

Leave a Reply

dinduniya