শুনছেন নাকি পুলিশের আইজিপি ক্রসফায়ার করতে চায়? সরকার অনুমতি দিলে নাকি তারা ক্রসফায়ার করতেও পিসপা হবে না। তারা যে ক্রসফায়ার করতে পিসপা হয় না এবং করতেই আগ্রহী এটা তো আমরা ইতিহাসে বহুভাবেই দেখছি, সেই রক্ষীবাহিনী থেকে শুরু করে শেখ মুজিব, খালেদা জিয়া সরকারের র্যাব এবং হাসিনা থেকে র্যাব হয়ে এখন পুলিশে নিয়ে আসছে ক্রসফায়ার। তো তারা ক্রসফায়ার করবে সেই আগ্রহ তারা জানাইছে।
অন্যদিকে যেটা হয়েছে যে ময়মনসিংহে এক ভদ্রমহিলা সে ফেসবুক লাইভে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের চুরি ইত্যাদির কারণে কিছু ক্ষোভ জানাইছে। পরে হলো যে বিএনপির মব তাকে অ্যাটাক করছে, তারপরে পুলিশ যেয়ে তাকে ধরে নিয়ে আসছে। পুলিশ বলছে যে তার ভিডিওতে আসলে ওই অর্থে তেমন আপত্তিকর কিছু পায় নাই, কিন্তু তাকে আদালতে সোপর্দ করছে এবং আদালত তাকে এবার জেলেও পাঠায় দিছে। এই দুইটা জিনিস কানেক্টেড, মানে হলো যে বিএনপির যেই লোকজন, ব্যবসায়ী এবং অন্যান্য যুবদল, ছাত্রদল যারাই হোক না কেন, বিএনপির লোকজন তারা ওই ভদ্র মহিলাকে অ্যাটাক করল। তাদেরকে যখন কন্ট্রোল করা হয় না, বরং যে আপত্তি করল তার চুরির ব্যাপারে ক্ষোভ জানাইল, তাকেই যখন জেলখানায় যাইতে হয়, তখন কী হয়? তখন বিএনপির ওই লোকগুলা লাই পায়।
আর এই যে লাই পাওয়া, এই লাই পাওয়া এক্সটেন্ড করে পুলিশ এবং ইভেন জুডিশিয়ারি পর্যন্ত। কারণ বাংলাদেশের যে জুডিশিয়ারি, সেটার যে জুডিশিয়াল সার্ভিস যেটা, বা জুডিশিয়াল কি বলা যায়, মানে যেটা হচ্ছে যে বিসিএস কাইন্ড অফ বিসিএস দিয়ে ঢোকে, যেটা ঠিক ডিরেক্টলি সুপ্রিম কোর্টের আন্ডারে না, মানে সোকল্ড লোয়ার কোর্ট যেটা, এটা যেহেতু আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে, ফলে এটা সরকারের উইং হিসেবে কাজ করে। এদের ভিতরে তখন মেসেজটা যায় যে কাকে প্রায়োরিটি দিতে হবে, কাকে মনে করেন যে এক ধরনের বেনিফিট দিতে হবে এবং কাকে জেলখানায় পাঠাইতে হবে। এর ফলে যেটা হয় যে বিএনপির লগে বা সরকারি দলের লগে কানেক্টেড যে কেউ তার জামিন থেকে শুরু করে অন্যান্য ব্যাপারে সার্টেন কতগুলা সুবিধা পায়। আপনারা জানেন পিপি, পাবলিক প্রসিকিউটর, যে তার হবার কথা স্টেট অ্যাপয়েন্টেড প্রসিকিউটর, মানে হচ্ছে যে স্টেটের লোক সে এবং দেশের সকল নাগরিকেরই সমান হক তার উপরে। কিন্তু বাস্তবে এই পিপিরা হয় হচ্ছে সরকারি দলের। তো তখন ধরেন আকামুকাম যারা করে তাদের যে জামিন ইত্যাদি এই জিনিসগুলো তারা বিশেষ সুবিধা পায়।
একদিকে তাহলে এইটা হলো মেকানিজম যে লিগাল সিস্টেম এইভাবে ইনএফেক্টিভ হয়ে ওঠে, তার যে জাস্টিস এনসিওর করার কথা, এবং ধরেন অতি ভায়োলেন্ট ক্রাইমের বেলায় জামিন পাওয়ার কথা না আর যেগুলো হচ্ছে যে ইভেন কোনো ক্রাইমই না জাস্ট এরকম ক্ষোভ প্রকাশ করা বা ইত্যাদি, তাদের জামিন তো দূরের কথা তাদের ফার্স্ট চান্সেই এটার মামলার মেরিটই এইখানে নাই সেই জিনিসটা আদালত বইলা দিয়া তারপরে তাকে কাইন্ড অফ মুক্ত করে দেওয়ার কথা। এর কোনোোটাই হয় না, বরং সরকারি দল যে সুবিধাটা পায় এবং সরকারি দলের লগে কানেক্টেড লোকজন যে সুবিধাটা পায় এটার ফলাফল হলো যে এদের উপরে কোনো কন্ট্রোলার কাজ করে না। মানে হলো যে তখন ধরেন পিএম বা বিএনপির হেড তারা যদি কন্ট্রোল করতে চায় সেই জিনিসগুলো কাজ করবে না।
এইটা একটা দিকে হয় আর অন্যদিকে দেখা যায় যে যখন এই জিনিসটা কাজ করে না তখন সরকার যে খালেদা জিয়ার সরকার বা এখন এই যে পুলিশ যে আগ্রহ জানাইল তখন এরা হলো যে আপনার তাইলে এটার উপায় কী? উপায় তখন হয়ে দাঁড়ায় হচ্ছে ক্রসফায়ার। একদিকে হচ্ছে যে ওইভাবে ছেড়ে দিলাম আবার অন্যদিকে হচ্ছে যে ক্রসফায়ার দিয়ে ইয়ে করলাম। অর্থাৎ এই দুইটা সিস্টেম আসলে একটা সিস্টেমের দুইটা পার্ট, আসলে যেটা করে সেটা হচ্ছে যে মানুষকে ঠেলে দেয় আপনার এক আকাম কুকামের দিকে, দুই আবার সেটা ঠেকাবার জন্য কী করে আপনার আইন বা আদালত, জাস্টিস সিস্টেম এইটা সম্পূর্ণ এড়াইয়া পুলিশ দিয়ে হচ্ছে যে ওরকম ক্রসফায়ারের দিকে যায়।
আর পুলিশ এরকম আগ্রহ দেখাইতে পারে এবং দেখেন পুলিশ যেরকম আগ্রহ দেখাইছে এই জিনিসটি একটা বিরাট ঘটনা হবার কথা এবং এই পুলিশের উপরে কোনো একটা পানিশমেন্ট এই পুলিশের হওয়ার কথা, কিন্তু বাস্তবে কিছুই হয় না। যেন বা এটা একটা সরকারের পক্ষের কথা, কিন্তু এটা রাষ্ট্রের তো না, জনগণের তো বিপক্ষেই, ইভেন সরকারেরও পক্ষের কথা না এটা, ফলে তার হওয়ার কথা পানিশমেন্ট কিন্তু আসলে তার কিছুই হয় না। এই যে জিনিসটা, ফলে একদিকে হচ্ছে আপনার ক্রাইম বা এই খারাপ খারাপ মানুষজনকে লাই দেওয়া আর অন্যদিকে হচ্ছে ক্রসফায়ার। এবং এই ঘটনার ভিতর দিয়ে আল্টিমেটলি যেটা ঘটে সেটা হচ্ছে যে বহু একদম ইনোসেন্ট পিপল তাদের ক্রসফায়ারে পড়ে। কেউ আপনাদের মনে আছে কিনা এইযে হাসিনার সময় র্যাব যে লিমন নামে এক পোলার এইযে হাঁটুতে বন্দুক ঠেকাইয়া তারপরে গুলি করছিল ফলে তার পা কাটতে হইছে, পা নাই হয়ে গেছে, ওইরকম সার্টেন কতগুলো ঘটনা ঘটে। নারায়ণগঞ্জে সিক্স মার্ডার হলো, ওরকম ঘটনা ঘটতে পারে।
এবং মোর ইম্পর্টেন্টলি যেটা আমার সবচেয়ে বড় আপনার চিন্তার জায়গা বা যে কারণে আমি বলব যে আমাদের সবারই আসলে ডরানো দরকার, সেটা হলো এই যে ২৪-এর যে হাসিনা বিরোধী মুভমেন্ট, রেভলুশন, এই রেভলুশনে এইখানে এই সময় হচ্ছে যে পুলিশ সবচেয়ে বেশি হিউমিলিয়েটেড হইছে বইলা এজ ইনস্টিটিউশন পুলিশ মনে করে। ফলে যেটা হইছে যে এই ২৪-এর রেভলুশনের সাথে কোনো না কোনোভাবে রিলেশন আছে এরকম যে কারো উপরে পুলিশ এজ ইনস্টিটিউশন, কেবলমাত্র পুলিশ না, বাংলাদেশের যে সিভিল, মিলিটারি, পুলিশ এরা সবাই, থিওরিটিক্যালি এরা এদের ক্ষ্যাপা থাকার কথা। ফলে সরকার যখন ওই ধরনের গ্রিন সিগন্যাল দিবে তার আল্টিমেট ফলাফল হয়ে যাবে এই যে পুলিশের এজ ইনস্টিটিউশন তার নিজের যে ঝাল খোশ, সেই জিনিসগুলা ঝাড়ার সে জায়গা পাবে এবং তাতে রিয়াল ক্রিমিনালরা তাদের তো আসলে তেমন কিছু হবেই না, বরং পুলিশ তখন করবে কী সেলফ মোটিভেটেড অ্যাকশনে যাইয়া তারপর যাদের নামের লগে যাদের কায়কাবারের লগে কোনো না কোনোভাবে জুলাই রেভলুশন অ্যাসোসিয়েটেড বলে দেখতে পাবে তাদেরকে ভিক্টিমাইজ করবে। তাদেরকে আপনার এইযে রিমান্ড নেওয়া থেকে শুরু করে, রিমান্ড নেওয়ার তো দরকারও নাই, মানে তারা তো আপনার ধইরা তারপরে হচ্ছে যে যতক্ষণ ততক্ষণ রাইখা যেমনে খুশি তেমনি ইয়ে করে দিতে পারে। আপনারা জানেন যে কিছুদিন আগে মিরাজ শেখ বলে একজন গুম হইছে তা সে আর ফেরে নাই।
তো এই এ ধরনের ফলে দুইটা ঘটনা ঘটতে পারে। একটা হচ্ছে যে ইনোসেন্টরা, আরেকটা হলো যে আপনার যাদেরও এই যে জুলাই এবং হাসিনা রেভলুশনের লগে যাদের কোনো এক ধরনের যোগাযোগ আছে তাদের উপরে পানিশমেন্ট। এবং এইটা আর যেটা করে সেটা হচ্ছে যে পুলিশ বা এ ধরনের যে পজিশনগুলো আছে তাদের ইনোসেন্ট পিপলকে ধইরা তারপরে পয়সাপাতি খাওয়ার একটা ব্যবস্থা করে দেয়। ফলে এই পুরা জিনিসটাই যেটা হয় যে আমরা আরো বেশি এজ এ স্টেট ইলনেসের দিকে আগাই, আমরা আরো তিন দিন খারাপের দিকেই আগাই এবং ধরেন আপনি যদি হিউম্যান রাইটস ইনডেক্স চিন্তা করেন বা হচ্ছে যে জাস্টিস ইনডেক্স চিন্তা করেন, এইটায় আমরা আরো নিচের দিকে যাইতে থাকবো।
এবং সেটা দুইটা জায়গায় হয়, একটা হচ্ছে যে লাই দেওয়া এবং ওই যে লাই অতিলাই দিয়ে ফেলল তারপরে আবার যারা কথা শোনে না তাদেরকে আবার ক্রসফায়ার দেওয়া। এই দুইটা ঘটনার ভিতর দিয়ে আসলে দুইটা ইনডেক্সই আমরা আরো খারাপের দিকে যাইতে থাকবো এবং জনগণ ডেফিনেটলি তাতে আল্টিমেটলি খারাপই থাকবে। ফলে জিনিসটা খুবই অ্যালার্মিং। এবং ধরেন বিএনপি বা সরকার বা হযরত তারেক রহমান, তার উচিত হলো ওই লাইটাও না দেওয়া এবং ক্লিয়ার মেসেজ দেওয়া যাতে তার দলের লগে অ্যাসোসিয়েটেড যে ক্রিমিনালস তারা জাস্টিস সিস্টেমের বাড়তি সুবিধা না পায়। এবং এই যে পুলিশের আইজিপি যে আগ্রহ প্রকাশ করল এটার ব্যাপারেও এক ধরনের পানিশমেন্টের ব্যবস্থা করা দরকার যাতে এইটা সে যে বলতে পারে না সেই জিনিসটাও ইনস্টিটিউশন হিসেবে পুলিশের কাছে যায়।

Leave a Reply