View: 4

কী সাজেশন দেয় রইদ?

স্বাধীনতার অর্থ যদি হয় যৌনতাহীন একাকীত্ব, আর আইনের মারপ্যাঁচে পুরুষ যদি হয় দিশেহারা তবে এই সমাজ ও সিনেমার বার্তা একটাই: সব জটিলতা বাদ দিয়ে ছাগল চরিয়ে সুখে থাকো!
আর্ট-কালচার

এমন কি হইতে পারে মেজবাউর রহমান সুমন আদৌ বাঙালি না, উনি বাগদাদ থেকে আসছেন নাকি? সুমন একজন—আরও জালি মাতবর রয়কে নিয়া বেশ ক্যাচাল হইতেছে কালচার মুভিগোয়ারদের ভিতর, রইদ বেশ সেলিব্রেটেড হইতেছে। এক্সপেক্টেশন থেকে আরো অনেক অনেক বেটার, আমি খুবই আনন্দিত, খুবই আন্দোলিত। বাঙালিরা মেটাফোর বোঝে, মাইকেল এঞ্জেলও চিনে, বাইবেল থেকে সিসিফাস নিয়া ভাবে, সফা-হুমায়ুন আজাদ-ফাহামদের কাছে আসে—এটা তো বেশ অবাক ঘটনা! কিন্তু দ্বীন-দুনিয়া অত কিছু বোঝে না, তারা কিছু সাজেশন দেখতে পায়—পোলা ও মায়ার মানুষের জীবন কেমনে কাটানো উচিত সেই ব্যাপারে রইদ কিছু মেসেজ দিতেছে। সফা, হুমায়ুন আজাদ, ফাহামদের বাঙালির রিপ্রোডাকশন না ঘটুক, তাহাদের বিদায়ে সুস্থ হয়ে উঠুক দুনিয়া—হয়তো সেই প্রেসক্রিপশনই দিতেছেন হযরত সুমন আল বাগদাদী!

‘রইদ‘ সিনেমা মায়াদের কইতেছে, “তুমি যদি স্বাধীন, তাইলে আর সেক্স করবা কেন?” গল্পে আমরা দেখি এক পাগলীরে, স্বামী বা সোসাইটির নিয়মকানুনের তোয়াক্কা করে না সে। মন চাইলেই ভরা মজলিসে নাচে, পুরা মাসের মাছের খাবার একদিনে ঢাইলা দেয় জলমহলে, তরকারিতে নুন-ঝাল বেশি হইলেও তার অনুতাপ হয় না; কিংবা সেকলে বাইন্ধা রাখাই তার ঘোর আপত্তি। পাগলী চরিত্রের ভিতর দিয়া রইদ আমাদের দেখাইতেছে একজন স্বাধীন মাইয়া যা কিছু করতে চায় এবং পাগলীর বাহানা সেগুলা করার রাস্তা বানায়া দিতে পারে। তবে স্বাধীন মাইয়া অত কিছু করলেও সেক্স করে না, কেননা সে স্বাধীন! তবু পাগলী পোয়াতি হইয়া যায়, তাতে সেক্স দরকার হয় না, কেননা সে স্বাধীন!

রইদ দেখাইল, সেক্স হইতেছে পরাধীন নারীর কাই-কারবার এবং এইটা তার জন্য কোনো ডিজাইরেবল ইভেন্ট না। সেক্স হইল একটা সার্ভিস, যেটা পরাধীন মায়ারা পোলাদের দিতে বাধ্য হয়। নারী স্বাধীন হয়ে গেলে তার সেক্সের দরকার পড়ে না, কেননা সে স্বাধীন! রইদ দেখাইতেছে, মায়াদের মুক্তি মানে যৌনমুক্তি।

সিনেমায় দেখা যাইতেছে সাধুর বউ পোয়াতি। সাধুর হিসাব হইলো, বউয়ের লগে তার যেহেতু সেক্স হয় নাই, তাই এই বাচ্চার বাপ সে না। এখন ফিকশনের দুনিয়া থেকে বাইর হইয়া আমরা যদি বাস্তবতা চিন্তা করি, তাইলে দেখা যাইতেছে এই বাচ্চা জন্ম নিলে সাধুর বাচ্চা পরিচয়ে জন্ম নেবে, সাধুরই লিগাল ওয়ারিশ হবে। বাংলাদেশের প্রচলিত আইন মোতাবেক একজন বিবাহিত মায়ার বাচ্চা অফকোর্স তার স্বামীর! বিবাহিত নারী যদি অন্য পুরুষ দিয়া পোয়াতি হয়, তবু সেই বাচ্চার ভরণপোষণের দায়িত্ব স্বামীর ঘাড়েই বর্তাবে, তালাকের পরেও চাইল্ড কেয়ার সাপোর্ট দিয়া যাইতে হবে। বউয়ের পেটের বাচ্চা নিয়া স্বামীর সন্দেহ হইলে সে মামলা করতে পারে, ডিএনএ টেস্টের ভিতর দিয়া আদালত তারে দায়মুক্তিও দিতে পারে। কিন্তু এই মামলা এবং টেস্টের যেসব খরচ, তা ওই স্বামীরেই দিতে হবে! দেশের আইন-আদালতের যে হালত, তাতে মামলার খরচ নাকি চাইল্ড কেয়ার? কোনটা বেশি হবে তা বোঝা কঠিন।

ফলে বেশিরভাগ স্বামীর সন্দেহ হইলেও সেটা নিরসণে সাধুর তরিকায় হাঁটা ছাড়া উপায় থাকে না। তাইলে আইন-কানুন স্বামীদেরকে সাজেশন দিতেছে বউদের যৌনতা কন্ট্রোল করার। দেশের আইন কইতেছে, এক পুরুষের বউয়ের লগে অন্য পুরুষের সেক্স ঘটলে তাতে ব্যভিচার নামের ক্রাইম ঘটে। আর এই ঘটনায় ক্রিমিনাল হয় সেই অন্য পুরুষ, স্ত্রী নয়! তাইলে তার অর্থ দাঁড়ায়, এই আইন পোলাদের ভিতরেই মারামারির শর্ত তৈরি করে দেয় এবং বউরে আটকায়া রাখতে স্বামীরে ফুসলায়।

এবার ফেরা যাক ‘রইদে‘ সিনেমায়। দেখা যাইতেছে, পাগলীর গর্ভের যে সন্তান সাধুর না, সেই সন্তান নষ্ট করার চেষ্টা করতেছে সাধু, ডিসিশন নিতেছে বউয়ের গর্ভপাতের। তার মানে সাধু নারী নির্যাতনের ক্রাইমের দিকে আগায় যাইতেছে। পয়েন্ট হইলো, সাধু কী করবে? বউয়ের যৌনতা ঠিকঠাক কন্ট্রোল করতে না পারার পরে যেই বাচ্চা তার না, সেই বাচ্চারে নিজের ওয়ারিশ বানাবে, ভরণপোষণ দেবে, মামলা করবে, ডিএনএ টেস্ট করাবে? কোথায় নালিশ করবে সাধু? বউয়ের ‘মাই বডি, মাই চয়েস’ ভাবনায় কতটা রাজি হইতে পারবে সাধু? ওদিকে গর্ভপাতে যদি বউ মইরা যায়, সেই জুলুমে সাধুরে কি আমরা দায়মুক্তি দিব?

সিনেমায় আমরা দেখতে পাই পাগলী ইনোসেন্ট। পাগলীর ছাগলের মাংস ক্যানিভালের মতো খাইতেছে সাধু। রইদ তাইলে মায়াদের কইতেছে, স্বাধীন হইতে হইলে পাগল হও। সেক্স কইরো না। মা হওয়ার খায়েশ হইলে সেক্স না কইরাই পোয়াতি হও। তবে একটা ছাগল পালবা। আর এই সিনেমা এবং দেশের আইন পোলাদের কইতেছে, ইট ছাগল, বি হ্যাপি!

দিন দুনিয়া

Leave a Reply

dinduniya

Share with