View: 5

এরিস্টটলের ‘প্রেম’ আর নিউটনের আপেল

নিউটন নাকি গাছের নিচে বইসা একদিন জিগাইছিলেন, "আপেলটা মাটিতেই পড়লো কেন?" আর এই প্রশ্নের জবাবের তালাশে নাইমাই নাকি উনি মহাকর্ষ বা গ্রাভিটি আবিষ্কার কইরা ফেললেন।
আর্ট-কালচার

কত কত দিকে যে মানুষের আগ্রহ থাকে, এমনকি বিজ্ঞানেও! কিন্তু সেই আগ্রহ নিয়ে যখন একটু পড়াশোনা বা ঘাটাঘাটি শুরু করবেন, তখনই জানবেন আমাদের দেশের আতেল, লেখক আর তথাকথিত মাস্টাররা কতটা আংশিক বা পার্শিয়ালি জ্ঞান বিলায় আমাদের। আর যারা জ্ঞানের অতলে যান, সমাজে বোধহয় তাদের ভাবনাগুলো ঢুকেই না বা ঢুকতে দেওয়া হয় না।

আমাদের সমাজে নিউটনের নাম শোনেন নাই এমন লোক খুঁজে পাওয়া দায়। অন্তত যারা একটু লেখাপড়া করছেন তারা তো সবাই জানেন—নিউটন নাকি গাছের নিচে বইসা একদিন জিগাইছিলেন, “আপেলটা মাটিতেই পড়লো কেন?” আর এই প্রশ্নের জবাবের তালাশে নাইমাই নাকি উনি মহাকর্ষ বা গ্রাভিটি আবিষ্কার কইরা ফেললেন।

গল্পটা ইন্টারেস্টিং, তাই না? কিন্তু নিউটন এই প্রশ্নটা তুলেছিলেন সত্য, তবে উনিই প্রথম না। বা সত্যি বলতে, এই প্রশ্ন উনাকে নতুন কইরা করতেই হয় নাই হয়তো; কেননা প্রশ্নটা সমাজে আগে থেকেই জিন্দা ছিল।

নিউটনের বহু আগে গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টোটল এই একই প্রশ্ন তুলছিলেন—উপর থেকা কোন জিনিস নিচে এসে পড়ে কেন? প্রশ্ন তোলার পর অ্যারিস্টোটল আবার এটার জবাবও দিছিলেন। তবে সেই জবাব সাইন্টিফিক কিছু ছিল না; ছিল মারিফতি, পিরিত আর আধ্যাত্মিকতার এক চূড়া! অ্যারিস্টোটল বললেন, জিনিসপাতি নিচে পড়ে কারণ মাটির লগে মিলনের তরে উতলা হয়ে থাকে তারা। অর্থাৎ মাটির টানে, ভালোবাসার টানে বস্তু নাকি মাটির বুকে ঝাঁপায়া পড়ে!

তবে নিউটনের প্রশ্নটা অ্যারিস্টোটলের চাইতে আরেকটু লম্বা আর ডিপ ছিল। কিন্তু সেই লেজুর বা আসল অংশটা আমাদের দেশের আতেলরা আর কাউরে কয় নাই। বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী মিশিও কাকুর মারফতে জানা যায়, নিউটন শুধু আপেল পড়া নিয়েই থাকেন নাই। উনি আরো জিগাইছিলেন—আপেলটা যদি মাটিতে আইসা পড়ে, তাহলে আকাশের ওই চাঁদটাও কি একদিন মাটিতে আইসা পড়বে? এই দুই প্রশ্নের জবাবের তালাশেই নিউটনকে ইনভেন্ট করতে হয়েছিল ক্যালকুলাস, মহাকর্ষ আর গতির বিখ্যাত সব থিওরি।

গতির এই থিওরিগুলার পেছনে অবশ্য আরো একটা মৌলিক প্রশ্ন ছিল—চলন্ত বস্তুরা চলতে চলতে স্লো হইতে হইতে একসময় থাইমা যায় কেন? মজার বিষয় হইলো, এই প্রশ্নটাও নিউটনের আগে অ্যারিস্টোটল মিয়াও কইরা গেছেন, আর জবাবও দিছিলেন নিজের স্টাইলে। অ্যারিস্টোটলের সোজা কথা ছিল, কোন জিনিস দৌড়াইতে দৌড়াইতে টায়ার্ড বা ক্লান্ত হইয়া যায়, তাই একসময় থাইমা যায়!

চিন্তা করেন, অ্যারিস্টোটলের এই ইন্টারেস্টিং কিন্তু ভাবুক ভুলগুলা ধরতে গিয়েই কিন্তু নিউটনের জন্ম হইলো। অ্যারিস্টোটলের আগেও হয়তো কেউ এই একই প্রশ্ন তুলছিলেন—হয়তো প্রাচীন মিশরে কিংবা গিলগামেশের মেসোপটেমিয়ার কোন পাঠশালায়, আমরা হয়তো তা জানি না।

কিন্তু আসল কথা কি? আসল কথা হইলো প্রশ্ন করা, জবাব খোঁজা আর পুরান জবাবের ভুল ধরা—এইটাই তো ইতিহাস ও বিজ্ঞানের গোড়ার কথা। আপনার কি মনে হয়? আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা কি আমাদের প্রশ্ন করতে শেখায়, নাকি স্রেফ অন্ধের মত মুখস্ত করতে শেখায়? কমেন্টে জানান আপনার মতামত।

দিন দুনিয়া

Leave a Reply

dinduniya

Share with