View: 4

কতা কম কবা

বেশি বলার নেশায় নিজের জীবন বা অন্যের মন পড়ার সুযোগ হাতছাড়া না করে, কান ও চোখের সঠিক ব্যবহার জানলে জীবনের যেকোনো খেলায় ধুরন্ধর হওয়া যায়।
আর্ট-কালচার

ও মানুষ, দুটো চোখ আর দুটো কান—আমি দেখবার পাই আর শুনবার! কিন্তু একটা মুক্ত কথা কব, কবা গুপ্ত গায়ক গুরুপদ? মানে নড়াইলের এই গায়কের নামই গুরুপদ গুপ্ত। উনার এই কথাগুলো প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে কইছিলেন গ্রিক দার্শনিক এপিকটাস। তিনি জিগাইছিলেন, আমাদের কেন মুখ একটা হইলেও কান দুইটা? কারণটা উনি আন্দাজ করছিলেন—ডাবল যেন শুনতে পারি আমরা!

এদিকে মার্ক টোয়েন কইলেন, বেশিরভাগ মানুষই আসলে অন্যের কথা মন দিয়ে শোনে না, খালি নিজের কথা বলার সিরিয়ালের অপেক্ষা করে। ব্যাপারটা নিয়ে বিজ্ঞানীরাও আগ্রহ দেখাইছে। হার্ভার্ডের গবেষণা কইতেছে, নিজের ব্যাপারে কথা কইলে আমাদের ব্রেইনে এমন একটা অনুভূতি হয়, যেটা কোনো সুস্বাদু খাবার বা টাকা-পয়সা পাইলে হয়। কথা বলাটা এক ধরনের মেন্টাল রিওয়ার্ড। আমরা যখন নিজের নিজের অভিজ্ঞতা শোনাই, তখন আমাদের ডোপামিন রিলিজ হয়; আমাদের ব্রেইন এক ধরনের ভালো লাগার নেশায় মেইতা থাকে।

মানব শিশু জিন্দেগীর শুরুর দুই বছর প্রায় কিছুই বলে না, খালি শোনে! এমনকি মায়ের পেটে থাকতেই শোনা শুরু হয়। ফলে দুই বছরে তারা একটা আস্ত ভাষা শিখে ফেলে। জনশ্রুতি আছে, হযরত আব্দুল কাদের জিলানী মায়ের পেটে থাকতেই ১৮ পারা কোরআন মুখস্ত কইরা ফেলছিলেন! কিন্তু বড় হইতে হইতে ডোপামিনের এই কারসাজিতে শোনার সেই গুরুত্ব ভুলতে থাকি আমরা। তাই হয়তো বড় হওয়ার পরে ১০ বছরেও নতুন একটা ভাষা শেখা কঠিন হয়ে যায়।

ডোপামিন রিলিজের এই পালে হাওয়া দিতেছে হালের সোশ্যাল মিডিয়া ব্রডকাস্টিং কালচারও। ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে আমরা এখন পার্সোনাল লাইফের আপডেট দিতেছি, সারাক্ষণ নিজের ব্যাপারে জানানোর একটা অভ্যাস তৈরি হইছে আমাদের। এইটা একটা ইগো স্যাটিসফাইং কাজ করে। ইগোর কারণে যেটা হয়—আমরা যখন নিজে না বইলা অন্যের কথা শুনি, তখন তারে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, যেটা অনেক সময় আমরা দিতে চাই না। ইগো আমাদের এইটা বোঝাইতে চায় যে, আমি যা বলতেছি সেইটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ!

তাছাড়া অ্যাক্টিভ লিসেনিং বা শোনার কাজটা আসলে বেশ পরিশ্রমের, যেটা অলস মস্তিষ্ক বেশিরভাগ সময়ই এড়ায় চলতে চায়। কিন্তু বুদ্ধিমান মানুষ ডোপামিন আর ইগোর এই ফুসলানি এড়ায় চলতে চায়। তারা বলার তাড়ার পাশ কাইট্যা শোনারটারে গুরুত্ব দেয়। কারণ একজন ভালো শ্রোতা তার সামনে কথা বলা মানুষটার দুর্বলতা, আবেগ ও চিন্তা সহজেই বুইঝা ফেলতে পারে। তাছাড়া বলাবলির চোটে সামনের মানুষটার ফেসিয়াল এক্সপ্রেশন, বডি ল্যাঙ্গুয়েজ কিংবা মাইন্ড রিড করতে পারবেন না আপনি! ফলে সমাজের অন্য মানুষরে রিড কইরা সেই অনুযায়ী পা ফেইলা জেতার যে ধান্দা মানুষের, সেইখানে কামিয়াব হইতে গেলে বলাবলি কমায়া শোনাটাই বেশি জরুরি।

যদি মস্ত ক্রাইম করতে চান কিংবা মস্ত ক্রিমিনাল ধরতে চান—মানে আপনি যদি ধুরন্ধর হইতে চান—তাইলে আপনার শুনতে হবে বেশি বেশি, চোখা করতে হবে নজর! কেননা, কানের মতো চোখও আমাদের দুইটাই।

দিন দুনিয়া

Leave a Reply

dinduniya

Share with