হযরতেরা, দোস্ত এবং দুশমনেরা সালাম।
ইন্ডিয়ার লগে বাংলাদেশের রিলেশন আসলে কেমন হইতে পারতো বা হওয়া উচিত, এটা নিয়ে আমাদের একটা সিরিয়াস ভাবাভাবি দরকার।
বাংলাদেশ এবং জাপানের যে রিসেন্ট কিছু চুক্তি হইলো, এই চুক্তির ভেতরে ইন্ডিয়া আছে এবং ইন্ডিয়া এটাকে মারহাবা দিছে। আবার বাংলাদেশে এটা নিয়ে সমালোচনা হইতেছে। পয়েন্ট হইলো, বাংলাদেশের লগে ইন্ডিয়ার রিলেশন থাকবে, আর এখানে বাংলাদেশ এবং জাপানের যে রিলেশন, সেই রিলেশনের ভেতরেও ইন্ডিয়া আসবে, এটা থিওরিটিক্যালি অস্বাভাবিক তেমন ব্যাপার না। কিন্তু চিন্তার বিষয় হচ্ছে, আলোচনার টেবিলে যতগুলা ইস্যু আসার কথা, ততগুলা আসছে কিনা! মানে হইলো, বাংলাদেশ পক্ষের যে স্বার্থ, সেটা রক্ষা হইতেছে কিনা।
কি কি ধরনের ইস্যু থাকার কথা?
১. বাংলাদেশ-ইন্ডিয়ার লগে যে পানির রিলেশন, স্পেশালি তিস্তা এবং পদ্মা নদীসহ অন্যান্য নদী। আমরা যেহেতু ভাটির দেশ, সেই পানি আমরা পাচ্ছি কিনা।
২. নেপাল এবং ভুটানের লগে বাংলাদেশের যে বিজনেস, সেটার কোনো ব্যবস্থা ইন্ডিয়া আমাদের দেবে কিনা, এটা আরেকটা শর্ত।
৩. ইন্ডিয়ার এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায়, মানে সেভেন সিস্টারসে সে যে জিনিসপত্র নিবে, সেখানে মিলিটারি ইকুইপমেন্ট নিতে পারবে কিনা। কেননা ওইখানকার বিচ্ছিন্নতাবাদী বা স্বাধীনতাকামী যাদেরই বলেন, তারা যদি দেখে বাংলাদেশ ইন্ডিয়ান স্টেটকে সামরিকভাবে হেল্প করতেছে, তখন বাংলাদেশ তাদের একটা টার্গেট হওয়ার সিকিউরিটি রিস্ক তৈরি হয়।
৪. এর বাইরে জাপান এবং বাংলাদেশ মিলে এমন একটা সিস্টেম বানাইতে পারে কিনা, যেমন একটা ‘জাপান-বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন’, যারা ইন্ডিয়ার এক জায়গা থেকে মালামাল নিয়ে অন্য জায়গায় পৌছে দেবে। ইন্ডিয়ান শিপ নিজের ব্যবস্থাপনায় ঢুকবে আর বাংলাদেশ সেটা ইন্সপেক্ট করতে পারবে কি পারবে না, তাতে সামরিক গুডস আছে কিনা, নাকি বাংলাদেশ আর জাপান মিলে এই কাজটা পরিচালনা করবে?
বাংলাদেশের পপুলার সেন্টিমেন্ট অনুযায়ী ইন্ডিয়াকে একটা দোস্ত দেশ ভাবা মুশকিল। শেখ হাসিনার চেষ্টার পরও এই সেন্টিমেন্ট বদলায় নাই। এখন ইন্ডিয়ার স্বার্থ রক্ষার বেলায় যদি জাপানের কাভার ইউজ করা হয়, সেটা এনাফ না। বাংলাদেশ কিন্তু এই সবগুলা ইস্যু একসাথে আলাপ করতে পারার কথা, কিন্তু বাংলাদেশ সেটা পারে নাই। বাংলাদেশ কেবল জাপানের সাথে চুক্তি করতেছে, আর জাপান এখানে কাভার হিসেবে ইউজ হইতেছে বলেই ইন্ডিয়া এটাকে মারহাবা জানাচ্ছে।
তার মানে হচ্ছে, ৫ই আগস্টের পরে আমরা যে একটা ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফরেন পলিসি বা সার্বভৌমত্বের কথা ভাবছিলাম, সেটা রক্ষা করা যাচ্ছে না বা এই সরকার পারে নাই। কেন পারে নাই? কারণ বাংলাদেশের ডিপেন্ডেন্সি। বাজেট করা, সিভিল সার্ভেন্টদের বেতন দেওয়া বা মেগা প্রজেক্টের জন্য জাপান, আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক ও চীনের টাকার ওপর আমাদের নির্ভর করতে হয়। ফলে গ্লোবাল ব্লকগুলোর এই বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাংক বা আইএমএফের টাকা নিতে গেলে তাদের শর্ত মোতাবেক ইন্ডিয়াকেও সাথে রাখতে হয়, এটা আমাদের ক্রাইসিস।
আমার অবজারভেশন হচ্ছে, বাংলাদেশ তার নিজস্ব স্বার্থ রিলেটেড ইস্যুগুলো একই টেবিলে এনে আলোচনা করতে পারে নাই। এমনকি মিডিয়াতেও তিস্তা-পদ্মার পানি, নেপাল-ভুটানের সাথে বাণিজ্য কিংবা ইন্ডিয়ান মালপত্রের ওপর নজরদারির মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে তেমন আলোচনা দেখা যাচ্ছে না। দুর্বল ফরেন পলিসি এবং বিদেশি ঋণের ওপর অর্থনৈতিক নির্ভরতার কারণেই বাংলাদেশ একই টেবিলে নিজের দাবিগুলো তুলে ধরতে পারে নাই।

Leave a Reply