View: 5

ঢাকায় জইমা ওঠা ইফতারের হাট: শত বছরের ঐতিহ্য নাকি স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

রমজানের রকমারি ইফতারের মোহনীয় স্বাদের আড়ালে লুকিয়ে থাকা অস্বাস্থ্যকর তেল ও ক্ষতিকর রাসায়নিকের ভিড়ে আমাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কি কেবলই এক অনিবার্য পরিণতি?
পরিবেশ ও জলবায়ু

চকবাজারের ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ থেকে শুরু করে বনানীর আধুনিক ফিউশন ইফতার—সবখানেই ভোজনরসিকদের উপচে পড়া ভিড়। তবে এই মুখরোচক আয়োজনের আড়ালে আছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, আবার মাত্রাতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাওয়া নিয়া উদ্বেগও আছে সচেতন মহলে।

পুরান ঢাকার চকবাজার ইফতারির ৪০০ বছরের ঐতিহ্য ধইরা রাখলেও, ২০২৬ সালে আইসা রাজধানীর অন্যান্য এলাকাতেও গেইড়া উঠছে বড় বড় ইফতার বাজার। উত্তর ও পূর্ব ঢাকার মানুষের কাছে খিলগাঁও এখন ইফতারের জন্য প্রধান গন্তব্য; এইখানে কম দামে মিলতেছে নানা পদের হালিম ও কাবাব। অন্যদিকে মোহাম্মদপুরে দেখা যাইতেছে শরবত ও ফালুদার বিশাল আয়োজন। আবার ধানমন্ডি-বনানীতে প্রাধান্য পাইতেছে স্বাস্থ্যকর ও ফিউশন খাবারদাবার। চকবাজারে এখনো লাইগা আছে সেই চেনা ভিড় আর হুইহুল্লোড়; সুতি কাবাব, জালি কাবাব আর দইবড়ার টানে এখনো পুরা শহর থেকে ছুটে আসতেছে মানুষ।

ঢাকার ইফতার টেবিলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হইলো পেঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ আর জিলাপি। কিন্তু এই তেলে ভাজা সংস্কৃতি নিয়া পুষ্টিবিদসহ বিভিন্ন সচেতন মহলে আছে চরম সমালোচনা। সারাদিন খালি পেটে থাকার পর হুট কইরা অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার পাকস্থলীতে অ্যাসিড তৈরি করে। অনেক ক্ষেত্রে রাস্তার ধারের দোকানগুলায় পোড়া তেল ব্যবহারের অভিযোগ আছে, যা শরীরের জন্য দীর্ঘমেয়াদী বিষের মতো। একই তেল বারবার গরম করে ব্যবহারের ফলে খাবারে ক্ষতিকর ট্রান্সফ্যাট তৈরি হচ্ছে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। জিলাপি বা চপগুলারে আকর্ষণীয় করতে অনেক ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ ফুড কালার ব্যবহার করা হইতেছে। খোলা জায়গায় ধুলাবালির মধ্যে খাবার প্রদর্শন আর খালি হাতে পরিবেশন করার কারণে নানা রকম রোগের ঝুঁকিও আছে।

চলতি বছরে লেবু ও শসার দাম রমজানের শুরুর দিকে আকাশচুম্বী থাকলেও, দ্বিতীয় সপ্তাহে আইসা এইটা কিছুটা সহনশীল পর্যায়ে আইছে। কিন্তু মসলা আর ব্রয়লার মুরগির চড়া দামের প্রভাব পড়ছে ইফতারির প্যাকেটেও। মধ্যবিত্তের নাগালে রাখতে অনেক বিক্রেতা প্যাকেটের মান কমায়া বা পরিমাণ কমাইয়া সমন্বয় করার চেষ্টা করতেছে।

ইফতারের আনন্দ কেবল স্বাদে নয়, স্বাস্থ্যের দিকে নজর রাখাও জরুরি। ভাজাপোড়া খাবারের বদলে ফলমূল, চিড়া, দই বা ফলের রস দিয়ে ইফতার করার পরামর্শ দিতেছে বিশেষজ্ঞরা। রাস্তাঘাটের খোলা খাবারের চাইতে ঘরে তৈরি ইফতারিও হইতে পারে এবারের রমজানের সেরা সমাধান।

দিন দুনিয়া

Leave a Reply

dinduniya

Share with