View: 4

গ্রেট প্যাসিফিক গারবেজ প্যাচ মহাসাগরের মাঝে মানুষের বানানো নরক

প্লাস্টিকের অবিরাম দখলে সমুদ্রগুলো আজ এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে, যা ধীরে ধীরে আমাদের ফুড চেইনের মাধ্যমে মানবদেহেও ছড়িয়ে দিচ্ছে এক নীরব নিঃশেষকারী বিষ।
পরিবেশ ও জলবায়ু

ডেইলি লাইফে আমরা যেসব বর্জ্য তৈরি করি, তার সব কিন্তু পচনশীল না; বরং বেশিরভাগই প্লাস্টিক বর্জ্য, যা পচে না। এসব বর্জ্য আমাদের ঘর থেকা প্রথমে যায় রাস্তায়, নর্দমায়; তারপরে যায় নদীতে, নদী থেকা সমুদ্রে। মানুষের ফেলা আবর্জনা, বিশেষ করে প্লাস্টিক, সমুদ্রগুলায় এমনভাবে জমা হইছে যে, এইটা এখন প্রকৃতি আর মানুষ উভয়ের জন্যই একটা মরণফাঁদ। এই সমস্যার সবচাইতে বড় উদাহরণ ‘গ্রেট প্যাসিফিক গার্বেজ প্যাচ’!

উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত এই আবর্জনার স্তূপটা মূলত নদী, নালা আর খাল দিয়ে বয়ে আসা টন টন বর্জ্যের ফল। সমুদ্রের স্রোত এমন এক ভর্টেক্স বা ঘূর্ণি তৈরি করে যে, এই আবর্জনাগুলা আর বের হইতে পারে না, ওইখানেই আটকা পইড়া থাকে। এই প্যাচটা সাইজে আমেরিকার টেক্সাস স্টেটের চাইতেও তিন গুণ বড়! এইটা জাপানের উপকূল থেকে শুরু কইরা হাওয়াই হইয়া ক্যালিফোর্নিয়া পর্যন্ত ছড়ায়া আছে। আর আবর্জনার স্তর এতই মোটা যে, ঠিক কতখানি বর্জ্য এখানে আছে, তা ক্যালকুলেট করাও এখন অসম্ভব।

এইখানে বেশিরভাগই হইলো পরিত্যক্ত মাছ ধরার জাল, প্লাস্টিকের দড়ি, শক্ত প্লাস্টিক আর ফোম। সমুদ্রের উপরিভাগে এখন খাবারের চাইতে প্লাস্টিকের পরিমাণ ১৮০ গুণ বেশি! ফলে কচ্ছপ বা সামুদ্রিক পাখিরা না বুঝা এই প্লাস্টিক খাইতেছে। এমনকি তাদের ডায়েটের ৭৪ শতাংশই এখন প্লাস্টিক! কিন্তু ভাইবেন না যে, এই ধ্বংসযজ্ঞ শুধু সামুদ্রিক প্রাণীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। প্লাস্টিক এখন ঢুইকা পড়তেছে মানুষের শরীরেও!

প্লাস্টিক কখনো পচে না, কিন্তু এইটা ছোট ছোট টুকরা হয়ে যায়, যেটারে বলে মাইক্রোপ্লাস্টিক। সামুদ্রিক মাছ আর লবণের মাধ্যমে এই মাইক্রোপ্লাস্টিক ঢুইকা যাইতেছে মানুষের ফুড চেইনে। আর একবার যদি কোনোভাবে এটা মানুষের পরিপাকতন্ত্রে ঢুইকা যাইতে পারে, তাইলে তা হরমোনের ব্যালেন্স যেমন নষ্ট করে, তেমনি এন্ডোক্রাইন সিস্টেমের বারোটা বাজায়!

এই গ্রেট প্যাসিফিক গার্বেজ প্যাচের প্রভাব এতই বিশাল যে, ‘দ্য ওশান ক্লিনআপ’-এর মতো সংস্থাগুলা এটা নিয়ে কাজ করতেছে। জাতিসংঘের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নীতিমালা মূলত ‘জিরো ওয়েস্ট’ বা ‘সার্কুলার ইকোনমি’—এই দুইটা কনসেপ্টের ওপর ভিত্তি কইরা তৈরি। তাদের মূল পলিসি হইলো ‘রিডিউস, রিইউজ, রিসাইকেল’ বা থ্রি-আর (3R) মডেলরে শক্তভাবে কার্যকর করা।

সদস্য দেশগুলারে জাতিসংঘ এমন সব আইন করতে উৎসাহ দেয়, যেখানে প্লাস্টিকের উৎপাদন কমানো, পচনশীল বর্জ্য থেকা সার তৈরি এবং ক্ষতিকর বর্জ্যের নিরাপদ অপসারণ নিশ্চিত করা যায়। বিশেষ কইরা সমুদ্রের প্লাস্টিক দূষণ রোধে ২০২২ সালে কেনিয়ার নাইরোবিতে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ পরিবেশ সভায় ১৭৫টা দেশ প্লাস্টিক দূষণ বন্ধে একটি বৈশ্বিক চুক্তিতে একমত হয়, যেখানে বড় বড় কোম্পানিগুলা তাদের পণ্যের বর্জ্যের দায়ভার নিতে বাধ্য থাকব।

মূল কথা হইলো, জাতিসংঘের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নীতির উদ্দেশ্য প্রকৃতির সাথে মানুষের এক টেকসই ভারসাম্য তৈরি করা। আর এইটা অ্যাচিভ করা গেলেই এই বিশাল গার্বেজ প্যাচ বা মহাসাগরের প্লাস্টিক সন্ত্রাস থামানো সম্ভব।

দিন দুনিয়া

Leave a Reply

dinduniya

Share with