View: 1

হাসিনার সেক্স ডিপ্লোমেসি: আমাদের মেয়েরা কেন লাশ হইয়া ফেরে?

তৎকালীন সরকার বৈদেশিক মুদ্রা ও রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় প্রবাসী নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও সম্মান বিকিয়ে দিয়েছিল, যার চরম মূল্য দিতে হয়েছে অসংখ্য নারীকে।
পলিটিক্স

হেডিং-হাসিনার সেক্স ডিপ্লোমেসি: আমাদের মেয়েরা কেন লাশ হইয়া ফেরে?

“আমারে বাঁচান, আমারে দেশে ফিরাইয়া নিয়া যান…” ২০১৯ সালে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটা ভিডিও ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়। ২৫ বছর বয়সী সুমি আক্তারের এই আর্তনাদ তখন পুরা বাংলাদেশে ঝড় তুলছিল। তাকে নিয়া গেছিলো ক্লিনারের কাজের কথা বইলা। আর  ১৫ দিন আটকায়া রাইখা চালানো হইছিল নির্মম যৌন নিপীড়ন। সুমি ফিরতে পারছিলেন, কিন্তু গত ৫ বছরে ৪১২ জন নারী ফেরে নাই, ফিরছে তাদের নিথর দেহ। ২০২৪ সালে ৯৫ জন এবং ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত আরও ৫৮ জন নারী শ্রমিকের লাশ আসছে। আজ আমরা কথা বলব হাসিনার অদৃশ্য ‘সেক্স ডিপ্লোম্যাসি’ নিয়ে, যা আমাদের দেশের মা-বোনদের বিদেশের মাটিতে দাসে পরিণত করছে। 

 

ঘটনা বুঝতে আমাদের তাকাইতে হবে একটু পেছনে।। ২০১৫ সাল। বাংলাদেশে তখন ক্ষমতায় হাসিনা সরকার আর মিডল ইস্টে বাংলাদেশি নারী গৃহকর্মী নির্যাতন চরমে। অভিযোগ আছে, সৌদি আরবের সাথে রাজনৈতিক সুসম্পর্ক বা ‘সেক্স ডিপ্লোম্যাসি’ বজায় রাখতে নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তারে তুচ্ছ করা হইছিলো। ফলাফল, দেশ থিকা যেসব নারী সেখানে গেছে, তাদের বড় অংশই ফিরছে চরম গ্লানি নিয়া, অথবা ডেডবডি হইয়া। 

 

কিন্তু কেন তারা পালাইতে পারে না? 

পারে না কাফালা সিস্টেম নামক এক মডার্ন দাসত্ব আইনের কারনে। এখানে একজন শ্রমিকের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করে তার কফিল বা নিয়োগকর্তা। কফিলরা শুরুতেই পাসপোর্ট জব্দ কইরা নেয়। আর আছে ‘আকামা’—  মিডল ইস্টে কাজ করা শ্রমিকদের জন্য কাজের অনুমতিপত্র বা রেসিডেন্স পারমিট। এইটা একটা প্লাস্টিক কার্ডের মতো, যাতে আপনার নাম, ছবি, পাসপোর্ট নম্বর, পেশা এবং আপনি কোন কফিলের আন্ডারে কাজ করতেছেন সেই ইনফরমেশন থাকে। উইদাউট আকামা, আপনি সেখানে কাজ করতে পারবেন না, অনেক সময় কফিলরা আকামা জব্দ কইরা উল্টা শ্রমিকের নামে ‘হুরুব’ বা পালানোর মামলা দিয়া দেয়। ফলে নির্যাতিত নারী চাইলেও পুলিশের কাছে যাইতে পারেন না; গেলেই তারে শ্রীঘরে যেতে হয়। এই আইনি মারপ্যাঁচে আমাদের নারীরা বিদেশের মাটিতে একেকজন ‘আইনি দাসে’ পরিণত হয়। 

 

গুরুত্বপূর্ন ব্যাপার হইতেছে, বাংলাদেশ থিকা দালাল বা এজেন্সি ধইরা যারা যাইতেছে, তারা ভাবতেছে তারা জাস্ট গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেই যাইতেছে। অন্যদিকে মিডল ইস্টের কফিল ভাবতেছে সে যারে হায়ার করতেছে, তার সাথে কাজের পাশাপাশি সেক্সের ব্যাপারটাও ইনক্লুডেড। এইটা অনেকটা অলিখিত চুক্তির মত। 

 

এজেন্সিগুলা কফিলদের কাছ থিকা কমিশন পায়। শ্রমিকদের বলা হয় বেতন বেশি, কিন্তু গিয়া দেখে তারা দাসের মতো ইউজড হইতেছে। অনেক সময় নারীদের পাচারকারী চক্রের হাতেও তুইলা দেয়, যা ‘সেক্স র‍্যাকেট’ হিসেবে কাজ করে। 

 

ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় বছরে ৪ লাখ ৭০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মী নির্যাতন, শোষণ বা কষ্টের কারণে দেশে ফিরা আসছে। এদের মধ্যে ৬৭ হাজার ১৯৯ জন নারী শারীরিক বা যৌন সহিংসতার অভিযোগ করছে।

 

অন্যদিকে রামরুর গবেষণা অনুযায়ী, মিডল ইস্ট থিকা লাশ হয়া ফেরত আসা নারীদের ৭৯ শতাংশই গৃহকর্মী হিসেবে কাজে গেছিল। ডেডবডি দেশে আসার পর মৃত্যু নিয়া ফ্যামিলির সন্দেহ থাকলেও ময়নাতদন্ত করা হইতেছে না। রামরুর গবেষণায় উইঠা আসছে, দুর্ঘটনা ও আত্মহত্যায় ৩১ শতাংশ প্রবাসী নারী শ্রমিকের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হইলো, এই নারীদের মৃত্যুর গড় বয়স উন্নত দেশের তুলনায় ১০ বছর কম! সরকারি রিপোর্টে প্রায়ই ‘স্বাভাবিক মৃত্যু’ বা ‘স্ট্রোক’ লেইখা দেয়। যেইখানে মানবাধিকার কর্মীদের দাবি, এইসব মৃত্যুর বড় কারণ অমানুষিক নির্যাতন এবং মানসিক যন্ত্রণা থেকে বাইছা নেওয়া আত্মহত্যা।

 

তো এই যখন অবস্থা, তখন প্রশ্ন জাগে, এতো এতো রেমিট্যান্সযোদ্ধাদের এই অসহায় সিচুয়েশনে স্টেট কি কোন স্টেপ নিছে?

 

২০১৫ সালে সৌদি আরব শর্ত দিছিলো, নারী গৃহকর্মী না পাঠাইলে তারা বাংলাদেশের পুরুষদের জন্য লেবার মার্কেট ওপেন করবে না। কি ভাবতেছেন? তৎকালীন বাংলাদেশ সরকারে স্টান্ড কি ছিলো? দুঃখের ব্যাপার হইতেছে, হাসিনা সরকার এই শর্তে রাজি হয়। মাত্র ৮০০ রিয়াল অর্থাৎ মাত্র ১৫-১৬ হাজার টাকায় আমাদের মেয়েদের সৌদি আরবে পাঠাইতে রাজি হয় সরকার।  

 

অর্থাৎ অনবরত ঘটতে থাকা এই যৌন নির্যাতনের ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার এবং মিডল ইস্টের এমবাসিগুলা যথেষ্ট ওয়াকিবহাল থাকার পরেও, যখন একের পর এক এইরকম যৌন নির্যাতনে মৃত্যুর ঘটনা ঘটতেছে, তখন সহজেই বোঝা যায় যায় যে, প্রত্যক্ষভাবে বাংলাদেশ স্টেট বা হাসিনা সরকার এইটাতে মদদ যোগায়া গেছে। 

এইটা সোজা কথায়, হাসিনার সেক্স ডিপ্লোমেসি। 

 

প্রশ্ন হইলো , এইটারে আমরা হাসিনার সেক্স ডিপ্লোমেসি কেন বলতেছি?  

খেয়াল করলে দেখবেন, বাংলাদেশের ইসলামিস্ট/ওয়াহাবি/সালাফিদের সাথে হাসিনার সম্পর্ক ছিলো সাপে নেউলে। কিন্তু এদের গুম খুন বা নির্যাতনে ওয়াহাবি সৌদি আরব হাসিনার বিরুদ্ধে না গিয়া বরং চুপই থাকছে পুরা সময়। এর কারন কি? কারণ হইতেছে, ২০১৫ সালে ইন্দোনেশিয়া সরকার সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের ২১টা দেশে নারী গৃহকর্মী পাঠানো স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করে।  ফিলিপাইন ২০২১ সালে  গৃহকর্মী পাঠানো নিষিদ্ধ করে।  হাসিনা তখন সেই বিশাল শূন্যতা পূরন করতে আরো বেশি বেশি নারি শ্রমিক পাঠাইয়া সৌদি কফিলদের যৌন চাহিদা মিটাইছে। ২০১৬ থিকা ২০২৩ পর্যন্ত সৌদি আরব ৮ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি নারী গৃহকর্মী নিছে। প্রতি বছর এক লাখের বেশি বাংলাদেশি নারী সৌদিতে গেছে। আর শত শত জন ফিরা আসছে যৌন নির্যাতনের প্রমাণ নিয়া অথবা ডিরেক্ট ডেডবডি হইয়া।   

 

অন্যদিকে বাংলাদেশের সৌদি রাষ্ট্রদূত  পর্যন্ত বলতেছে, আদমব্যাপারীরা গরিব নারীদের টাকার লোভ দেখায়ে পাচার করতেছে। আবার দেখা গেছে সৌদি আরব গিয়া ওইসব নারীরা ২৫-৩০ হাজারের বেশি বেতনও পাইতেছে না। 

কিন্তু হাসিনা সরকার এই লোভী দালাল, এজেন্সি কিংবা শ্রমিকদের বেতন কাঠামো নিয়া কোন স্টেপ নাই।  

 

এখন কথা হইলো, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ানোই কি রাষ্ট্রের একমাত্র লক্ষ্য? আর সেইটা হাজারো প্রবাসী নারী শ্রমিকের সম্মান ও জীবনের বিনিময়ে হইলেও?  প্রবাসী নারী শ্রমিকের নিরাপত্তা কেন রাষ্ট্রের কাছে গৌণ? প্রশ্ন হইতেছে, তারেক রহমান কি হাসিনার এই সেক্স ডিপ্লোমেসি বহাল রাখবে, নাকি  আমাদের মা বোনদের বিদেশের মাটিতে নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করবে বিএনপি সরকার? 

দিন দুনিয়া

Leave a Reply

dinduniya

Share with